কয়েন কিনলেই ক্রিপ্টো মার্কেট ডাউন এ যায় কেন? বাঁচার সহজ উপায়

ক্রিপ্টো মার্কেট ডাউন
পড়তে লাগবেঃ 7 মিনিট

ক্রিপ্টো মার্কেট ডাউন

ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিংয়ে নতুন এসেছেন, আর ক্রিপ্টো মার্কেট ডাউন এর মতো তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই খুব কঠিন। আপনি হয়তো একটি নির্দিষ্ট কয়েন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নজর রাখছেন। দেখছেন সেটির দাম তরতর করে উপরের দিকে উঠছে। তখন আপনার মনে হলো, এখনই কেনার সবচেয়ে সঠিক সময়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেই না আপনি কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে কয়েনটি কিনলেন, ঠিক তার কিছুক্ষণ পরেই মার্কেট লাল হতে শুরু করল। আপনার কেনা দাম থেকে কয়েনের মূল্য শুধু নিচেই নামছে। তখন হতাশা থেকে মনে এই প্রশ্ন জাগা খুবই স্বাভাবিক যে, মার্কেট কি শুধু আমার জন্যেই বসে ছিল? আমি কিনলেই মার্কেট ডাউনে যায় কেন?

আসলে মার্কেট আপনার বা আমার কারও জন্য বসে নেই। এই সমস্যার মূলে রয়েছে আমাদের নিজস্ব মনস্তত্ত্ব, মার্কেটের কিছু লুকানো ফাঁদ এবং বড় বিনিয়োগকারীদের সুপরিকল্পিত খেলা। নতুন ট্রেডাররা না বুঝেই এমন কিছু সময়ে মার্কেটে প্রবেশ করেন, যখন সেখান থেকে দাম কমাটাই স্বাভাবিক নিয়ম। আজকের এই বিস্তারিত আলোচনায় আমরা এই রহস্যের জট খুলব। কেন এমনটা হয় এবং এই হতাশাজনক পরিস্থিতি বা প্যারা থেকে কীভাবে নিজেকে নিরাপদে রাখবেন, তার প্রতিটি দিক আমরা ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করব।

ফোমো এবং ক্রিপ্টো মার্কেটের সাইকোলজিক্যাল ফাঁদ

ক্রিপ্টো মার্কেটে সবচেয়ে বড় যে মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদটি কাজ করে, তার নাম হলো ফোমো বা ফিয়ার অফ মিসিং আউট। সহজ বাংলায় এর অর্থ হলো কোনো বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়। যখন কোনো কয়েনের দাম হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যায়, তখন ফেসবুক, টুইটার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্রিপ্টো কমিউনিটিতে সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। চারপাশের মানুষজন বলতে থাকে এই কয়েনটি টু দ্য মুন যাবে বা রাতারাতি বড়লোক করে দেবে। এই তীব্র হাইপ দেখে আপনার অবচেতন মনে হতে পারে যে, আপনি হয়তো বিশাল কোনো লাভের সুযোগ হাতছাড়া করে ফেলছেন।

আরও পড়ুনঃ টোকেনোমিক্স কী? একটি ভালো ক্রিপ্টো প্রজেক্ট চিনতে এটি কেন এত জরুরি?

এই ভয় বা ফোমো থেকে আপনি কোনো বাছবিচার না করেই তাড়াহুড়ো করে কয়েনটি কিনে ফেলেন। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা হলো, যখন কোনো কয়েন নিয়ে চারদিকে এত হইচই শুরু হয়, তখন তার দাম সাধারণত সর্বোচ্চ পর্যায়ে বা পিক লেভেলে পৌঁছে যায়। আর যেকোনো ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট সাইকেল অনুযায়ী, দাম একেবারে উঁচুতে যাওয়ার পর সেখান থেকে প্রাইস কারেকশন বা দাম কমা শুরু হওয়াটাই স্বাভাবিক নিয়ম। আপনি যখন ফোমোতে ভুগে সর্বোচ্চ দামে কয়েন কেনেন, ঠিক তখনই যারা অনেক কম দামে আগে থেকে কিনে রেখেছিল, তারা নিজেদের প্রফিট নেওয়ার জন্য কয়েন বিক্রি করতে শুরু করে। বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ার ফলে দাম কমতে থাকে আর আপনি লোকসানের মুখে পড়েন।

ক্রিপ্টো মার্কেট ডাউনঃ হোয়েলদের প্রভাব

ক্রিপ্টো মার্কেট অত্যন্ত ভোলাটাইল বা পরিবর্তনশীল। এখানে শেয়ার বাজারের মতো কঠোর রেগুলেশন তুলনামূলকভাবে কম থাকায় মার্কেট ম্যানিপুলেশন বা বাজার নিয়ন্ত্রণ করা খুব সাধারণ একটি ঘটনা। মার্কেটে এমন কিছু বড় বিনিয়োগকারী বা প্রতিষ্ঠান আছেন, যাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে কয়েন বা শত শত মিলিয়ন ডলারের ফান্ড থাকে। ক্রিপ্টোর পরিভাষায় এদেরকে হোয়েল বলা হয়। এই হোয়েলরা নিজেদের সুবিধার জন্য খুব সহজেই মার্কেটের গতিপথ পরিবর্তন করে দিতে পারেন।

তারা যখন কোনো কয়েনের দাম বাড়িয়ে লাভ করতে চান, তখন কৃত্রিমভাবে বাজারে একটি হাইপ তৈরি করেন। তারা একযোগে অনেক কয়েন কিনে দাম বাড়িয়ে দেন। সাধারণ রিটেইল ট্রেডাররা যখন সেই হাইপ দেখে ভাবেন যে কয়েনটির দাম বোধহয় আরও অনেক বাড়বে এবং তারা কিনতে শুরু করেন, ঠিক তখনই হোয়েলরা তাদের আসল খেলা শুরু করেন। দাম যখন তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায়, তখন তারা তাদের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ কয়েন সাধারণ ট্রেডারদের কাছে বিক্রি করে প্রফিট বুক করেন। একসঙ্গে এত বিশাল বিক্রির চাপে কয়েনের দাম ধপাস করে নিচে পড়ে যায়। একে বলা হয় পাম্প অ্যান্ড ডাম্প স্কিম। আপনি হয়তো সেই পাম্পিং বা দাম বাড়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে এন্ট্রি নিয়েছিলেন। ফলে হোয়েলরা যখন প্রফিট নিয়ে মার্কেট থেকে বেরিয়ে গেল, তখন মার্কেট ডাউন হয়ে গেল এবং আপনার ফান্ড আটকে গেল।

আরও পড়ুনঃ মিম কয়েন কি আসলেই লটারির টিকিট?

ক্রিপ্টো মার্কেট ডাউন তাও ভুল সময়ে এন্ট্রি নেওয়া

যেকোনো কয়েন কেনার আগে সেটি বর্তমানে চার্টের কোন অবস্থানে আছে, তা বোঝা একজন ট্রেডারের জন্য সবচেয়ে জরুরি। অনেকেই কোনো ধরনের টেকনিক্যাল এনালাইসিস বা চার্ট রিডিং না করেই শুধু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে বা অন্যের কথা শুনে কয়েন কিনে ফেলেন। একটি কয়েনের সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেল জানা না থাকলে ভুল সময়ে এন্ট্রি নেওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। সাপোর্ট হলো সেই জায়গা যেখান থেকে দাম বাধা পেয়ে উপরের দিকে ওঠে, আর রেজিস্ট্যান্স হলো সেই জায়গা যেখান থেকে দাম বাধা পেয়ে নিচের দিকে নেমে আসে।

যখন একটি কয়েনের দাম তার রেজিস্ট্যান্স বা সর্বোচ্চ বাধা অতিক্রম করতে না পেরে নিচের দিকে নামতে শুরু করার কথা, ঠিক সেই সময়ে এন্ট্রি নেওয়াটা চরম বোকামি। কিন্তু টেকনিক্যাল চার্ট পড়তে না জানার কারণে অনেকেই ঠিক রেজিস্ট্যান্স লেভেলে কয়েন কিনে ফেলেন এই আশায় যে দাম বুঝি আরও বাড়বে। এছাড়া আরএসআই বা রিলেটিভ স্ট্রেন্থ ইনডেক্স এর মতো অত্যন্ত সাধারণ ও কার্যকরী কিছু ইন্ডিকেটর না দেখার কারণে ওভারবট বা অতিরিক্ত কেনা হয়ে যাওয়া অবস্থায় অনেকে এন্ট্রি নেন। যখন কোনো কয়েন ওভারবট জোনে থাকে, তখন তার দাম কমার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সঠিক এনালাইসিস ছাড়া ভুল পয়েন্টে এন্ট্রি নিলেই মার্কেট ডাউনের এই নির্মম ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

এই প্যারা থেকে বাঁচতে সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট কীভাবে খুঁজবেন

ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিংয়ে সফল হতে হলে সঠিক সময়ে মার্কেটে প্রবেশ করা বা এন্ট্রি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই প্যারা থেকে বাঁচার প্রথম শর্ত হলো, কখনো চলন্ত ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করবেন না। অর্থাৎ, যখন কোনো কয়েন টানা সবুজ ক্যান্ডেল তৈরি করে উপরের দিকে উঠছে, তখন ফোমোতে ভুগে কেনা থেকে বিরত থাকুন। এর পরিবর্তে প্রাইস কারেকশন বা দাম কমার জন্য অপেক্ষা করুন। যেকোনো কয়েন যতই উপরে উঠুক না কেন, তা সবসময় একটি নির্দিষ্ট জিগজ্যাগ প্যাটার্ন অনুসরণ করে। উপরে ওঠার পর কিছুটা নিচে নেমে এসে সাপোর্ট তৈরি করে এবং তারপর আবার নতুন করে উপরে ওঠে।

আপনাকে সেই সাপোর্ট লেভেলটি খুঁজে বের করতে হবে। এন্ট্রি নেওয়ার জন্য ফিবোনাচ্চি রিট্রেসমেন্ট টুলের সাহায্য নিতে পারেন। এছাড়া আরএসআই যখন ত্রিশের নিচে বা ওভারসোল্ড পজিশনে থাকে, তখন এন্ট্রি নেওয়াটা তুলনামূলকভাবে অনেক নিরাপদ। ব্রেকআউট ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে ব্রেকআউটের সাথে সাথেই এন্ট্রি না নিয়ে, প্রাইস যখন আগের লেভেলটিকে রিটেস্ট করতে আসে, তখন কেনা বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুনঃ বিটকয়েন এর আকস্মিক দরপতন হলো যে কারণে

রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং পোর্টফোলিও ডাইভারসিফিকেশনের নিয়ম

মার্কেট আপনার কেনা দাম থেকে নিচে নেমে গেলেও যাতে আপনার পুরো মূলধন শেষ না হয়ে যায়, তার জন্য সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো রিস্ক ম্যানেজমেন্ট। ট্রেডিংয়ে প্রবেশের আগে আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে যে একটি ট্রেডে আপনি আপনার মূলধনের সর্বোচ্চ কতটুকু হারাতে রাজি আছেন। এজন্য স্টপ লস ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

অন্যদিকে, পোর্টফোলিও ডাইভারসিফিকেশন মানে হলো আপনার সব ডিম এক ঝুড়িতে না রাখা। আপনার কাছে যদি বিনিয়োগ করার মতো এক হাজার ডলার থাকে, তবে পুরো টাকা কখনোই একটি নির্দিষ্ট কয়েনে বিনিয়োগ করবেন না। ফান্ডটিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিন। বিটকয়েন বা ইথেরিয়ামের মতো ফান্ডামেন্টাল এবং স্ট্রং কয়েনে বড় একটি অংশ রাখুন এবং বাকিটা লেয়ার ওয়ান, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, গেমিং বা ডিফাই প্রজেক্টের ভালো কিছু অল্টকয়েনে বিনিয়োগ করুন। এতে কোনো একটি সেক্টর বা কয়েন ডাউনে গেলেও অন্য কয়েনের প্রফিট দিয়ে আপনার পোর্টফোলিও ব্যালেন্স হয়ে যাবে।

ইমোশনাল ট্রেডিং থেকে দূরে থাকার উপায়

মানুষ হিসেবে আমাদের সবার ভেতরেই আবেগ কাজ করে, কিন্তু ট্রেডিংয়ে আবেগের কোনো স্থান নেই। ভয়, লোভ এবং হতাশা এই তিনটি আবেগ যেকোনো ট্রেডারের সবচেয়ে বড় শত্রু। কোনো একটি ট্রেডে লস হলে অনেকেই মেজাজ হারিয়ে সাথে সাথে সেই লস রিকভার করার জন্য রিভেঞ্জ ট্রেডিং শুরু করেন। এটি আপনাকে আরও বড় লসের দিকে নিয়ে যাবে।

মার্কেট যখন রেড থাকে, তখন অনেকেই প্যানিক সেল বা আতঙ্কে লোকসানে কয়েন বিক্রি করে দেন। আবার মার্কেট একটু সবুজ হলেই লাভের আশায় সব টাকা ঢেলে দেন। এই ইমোশনাল সাইকেল থেকে বের হতে হলে আপনাকে একটি সুনির্দিষ্ট ট্রেডিং প্ল্যান তৈরি করতে হবে। কখন কিনবেন, কত লাভে বিক্রি করবেন এবং কত লস হলে ট্রেড ক্লোজ করে বেরিয়ে আসবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। মার্কেট যেমনই আচরণ করুক না কেন, নিজের ট্রেডিং প্ল্যানে অটল থাকাটা সফলতার অন্যতম মূল চাবিকাঠি।

আরও পড়ুনঃ নতুন ক্রিপ্টো প্রজেক্টের ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস (FA) করবেন কিভাবে?

ডিসিএ বা ডলার কস্ট এভারেজিং স্ট্র্যাটেজি কীভাবে কাজ করে

মার্কেটের এই ভোলাটিলিটি বা অপ্রত্যাশিত অস্থিরতা থেকে বাঁচার সবচেয়ে জাদুকরী ও পরীক্ষিত উপায় হলো ডিসিএ বা ডলার কস্ট এভারেজিং। এর মূল ধারণাটি খুবই সহজ। আপনার কাছে থাকা পুরো মূলধন দিয়ে একবারে বা সিঙ্গেল এন্ট্রিতে কোনো কয়েন না কিনে, তা ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন ধাপে কেনা।

ধরুন, আপনি একটি কয়েনে একশো ডলার বিনিয়োগ করতে চান। একবারে পুরো একশো ডলার না দিয়ে, প্রথমে বিশ ডলার দিয়ে কিনুন। এরপর মার্কেট যদি আরও ডাউন হয়, তবে আরও বিশ ডলারের কয়েন কিনুন। এভাবে ধাপে ধাপে কিনলে আপনার কয়েন কেনার গড় মূল্য বা এভারেজ প্রাইস অনেক কমে আসবে। ফলে মার্কেট যখন সামান্য একটু রিকভার করে উপরের দিকে যাবে, তখনই আপনি খুব দ্রুত প্রফিট বা লাভের মুখ দেখতে পারবেন। যারা সারাদিন চার্ট দেখার সময় পান না, তাদের জন্য ডিসিএ হলো সবচেয়ে নিরাপদ এবং প্রফিটেবল একটি ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজি।

উপসংহার

ক্রিপ্টো মার্কেট কোনো আলাদিনের জাদুর চেরাগ নয় যে ঘষা দিলেই রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাবেন। এখানে টিকে থাকতে হলে এবং সফল হতে হলে আপনাকে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং ধৈর্য ধারণ করতে হবে। কয়েন কিনলেই মার্কেট ডাউনে যায়, এই ধারণাটি আসলে আপনার ভুল সময়ে এবং ভুল স্ট্র্যাটেজিতে এন্ট্রি নেওয়ার একটি স্বাভাবিক ফলাফল মাত্র। মার্কেট তার নিজস্ব নিয়মেই চলবে, আপনাকে শুধু সেই নিয়মের সাথে তাল মিলিয়ে চলা শিখতে হবে।

অন্যের কথায় বা হাইপে কান না দিয়ে নিজে ফান্ডামেন্টাল এবং টেকনিক্যাল এনালাইসিস শিখুন। লোভ নিয়ন্ত্রণ করুন, স্টপ লস ব্যবহার করুন এবং সবসময় ডিসিএ করার জন্য হাতে কিছু ইউএসডিটি বা স্ট্যাবল কয়েন ব্যাকআপ হিসেবে রাখুন। মনে রাখবেন, ক্রিপ্টোতে তারাই চূড়ান্ত বিজয়ী হন, যারা মার্কেট ডাউনের চরম হতাশার সময়ও ধৈর্য ধরে টিকে থাকতে পারেন এবং সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন।

আরও পড়ূনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *