ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্যাস ফি কেন বাড়ে এবং কীভাবে কমাবেন?
ক্রিপ্টোকারেন্সি জগতে যারা নতুন বা কিছুদিন ধরে কাজ করছেন, তারা প্রায় সবাই একটি সাধারণ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, আর তা হলো গ্যাস ফি। আপনি হয়তো কাউকে কিছু ইথেরিয়াম বা অন্য কোনো কয়েন পাঠাতে গেলেন, কিন্তু দেখলেন আপনার পাঠানোর পরিমাণের চেয়ে ফি বেশি কাটছে। তখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এই গ্যাস ফি আসলে কী এবং কেন এটি দিতে হয়? খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে, গ্যাস ফি হলো ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে কোনো লেনদেন বা ট্রানজ্যাকশন সম্পন্ন করার জন্য যে চার্জ বা মাশুল দিতে হয়। আপনি যখন ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠান, তখন ব্যাংক আপনার কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সার্ভিস চার্জ কেটে নেয়। ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান নেই, তাই এই পুরো প্রক্রিয়াটি যারা সম্পন্ন করেন, তাদেরকে এই ফি প্রদান করতে হয়। এটি মূলত নেটওয়ার্কের একটি জ্বালানি হিসেবে কাজ করে, যা পুরো সিস্টেমটিকে সচল এবং সুরক্ষিত রাখে।
গ্যাস ফি কীভাবে কাজ করে এবং মাইনারদের ভূমিকা
ক্রিপ্টোকারেন্সি নেটওয়ার্কগুলো মূলত অসংখ্য কম্পিউটারের সমন্বয়ে তৈরি, যেগুলোকে নোড বলা হয়। আপনি যখন কোনো লেনদেন করেন, তখন সেই লেনদেনের তথ্য ব্লকচেইনে যুক্ত করার জন্য এই নোড বা মাইনারদের গাণিতিক হিসাব-নিকাশ করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় তাদের কম্পিউটিং পাওয়ার এবং বিদ্যুৎ খরচ হয়। এখন প্রশ্ন হলো, তারা কেন বিনা স্বার্থে আপনার লেনদেনটি সম্পন্ন করবে? ঠিক এখানেই গ্যাস ফি এর ধারণাটি আসে। আপনি লেনদেনের সময় যে গ্যাস ফি প্রদান করেন, তা সরাসরি সেই মাইনার বা ভ্যালিডেটরদের কাছে চলে যায় পুরস্কার হিসেবে। তারা আপনার লেনদেনটি যাচাই করে ব্লকচেইনে স্থায়ীভাবে যুক্ত করে দেন। যদি গ্যাস ফি না থাকত, তবে মাইনাররা নেটওয়ার্ক সচল রাখার কোনো উৎসাহ পেত না এবং স্প্যামাররা অগণিত ভুয়া লেনদেন করে পুরো সিস্টেম অচল করে দিত। তাই গ্যাস ফি ব্লকচেইনকে নিরাপদ এবং কার্যকর রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।
ক্রিপ্টোকারেন্সি নেটওয়ার্কে গ্যাস ফি কেন বাড়ে?
গ্যাস ফি কেন বাড়ে, এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে সাধারণ অর্থনীতির সাপ্লাই এবং ডিমান্ড বা চাহিদা ও জোগানের নিয়মের মধ্যে। প্রতিটি ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের একটি নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা রয়েছে। যেমন, বিটকয়েন বা ইথেরিয়াম নেটওয়ার্ক প্রতি সেকেন্ডে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি লেনদেন প্রসেস করতে পারে না। প্রতিটি ব্লকের জায়গা সীমিত থাকে। যখন একসাথে সারা বিশ্ব থেকে হাজার হাজার মানুষ লেনদেন করার চেষ্টা করে, তখন ব্লকের ওই সীমিত জায়গার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। মাইনাররা সবসময় সেই লেনদেনগুলোকেই আগে প্রসেস করে, যেগুলোতে গ্যাস ফি বেশি দেওয়া থাকে। কারণ এতে তাদের লাভ বেশি। ফলশ্রুতিতে, আপনি যদি চান আপনার লেনদেনটি দ্রুত সম্পন্ন হোক, তবে আপনাকে অন্যদের চেয়ে বেশি গ্যাস ফি অফার করতে হবে। এভাবেই প্রতিযোগিতার কারণে গ্যাস ফি হু হু করে বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুনঃ Oracle কী? ব্লকচেইন ওরাকল কীভাবে কাজ করে?
নেটওয়ার্ক কনজেশন বা অতিরিক্ত লেনদেনের চাপ
নেটওয়ার্ক কনজেশন বা যানজট হলো গ্যাস ফি বাড়ার সবচেয়ে প্রধান কারণ। যখন বাজারে বুল রান চলে বা ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম হঠাৎ করে খুব দ্রুত বাড়তে বা কমতে শুরু করে, তখন সবাই একসাথে কয়েন কেনা-বেচা করতে চায়। এই অতিরিক্ত চাপের কারণে নেটওয়ার্কে এক ধরনের ট্রাফিক জ্যাম তৈরি হয়। নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে ইথেরিয়াম নেটওয়ার্কের স্বাভাবিক অবস্থা এবং কনজেশনের সময় গ্যাস ফি এর একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:
| নেটওয়ার্কের অবস্থা | গড় লেনদেনের চাপ | সাধারণ কয়েন ট্রান্সফার ফি | জটিল স্মার্ট কন্ট্রাক্ট ফি |
| স্বাভাবিক বা শান্ত অবস্থা | স্বাভাবিক | ১ থেকে ২ ডলার | ৫ থেকে ১০ ডলার |
| মাঝারি কনজেশন | বেশি | ৫ থেকে ১০ ডলার | ২০ থেকে ৫০ ডলার |
| চরম নেটওয়ার্ক কনজেশন | অতিরিক্ত বেশি | ২০ থেকে ৫০ ডলার | ১০০ থেকে ৩০০ ডলার বা তার বেশি |
এই টেবিল থেকে আপনি সহজেই বুঝতে পারছেন যে, নেটওয়ার্কে যখন চাপ বাড়ে, তখন সাধারণ একটি ট্রান্সফার করতেও কতটা অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। আপনি লাইভ গ্যাস ফি ট্র্যাক করার জন্য Etherscan ওয়েবসাইটের গ্যাস ট্র্যাকার ফিচারটি ব্যবহার করতে পারেন, যা আপনাকে সঠিক সময়ে লেনদেন করার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
স্মার্ট কন্ট্রাক্ট, ডিফাই এবং এনএফটি মিন্টিং এর প্রভাব
সব লেনদেন সমান নয়। আপনি যদি শুধুমাত্র আপনার ওয়ালেট থেকে অন্য কারো ওয়ালেটে কিছু কয়েন পাঠান, তবে সেটির জন্য খুব সামান্য কম্পিউটিং পাওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আপনি যদি ডিসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্স বা ডিফাই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন করেন, যেমন কোনো টোকেন সোয়াপ করা, লিকুইডিটি প্রদান করা বা নতুন কোনো নন-ফাঞ্জিবল টোকেন বা এনএফটি মিন্ট করা, তবে সেগুলোর জন্য স্মার্ট কন্ট্রাক্টের জটিল গাণিতিক হিসাব সম্পন্ন করতে হয়। এই জটিল কাজগুলো প্রসেস করার জন্য নেটওয়ার্কের অনেক বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়, যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই গ্যাস ফি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যখন জনপ্রিয় কোনো এনএফটি প্রজেক্ট বাজারে আসে, তখন হাজার হাজার মানুষ একসাথে সেটি কেনার বা মিন্ট করার চেষ্টা করে। একে ক্রিপ্টোর ভাষায় গ্যাস ওয়ার বলা হয়। এই গ্যাস ওয়ারের সময় ফি এতই বেড়ে যায় যে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারীর পক্ষে লেনদেন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
গ্যাস ফি এর সাথে ক্রিপ্টোকারেন্সির দামের সম্পর্ক
অনেকেই একটি বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিতে ভোগেন যে, ক্রিপ্টোকারেন্সির নিজস্ব দাম বাড়লে কি গ্যাস ফিও বাড়ে? এর উত্তর হলো, হ্যাঁ এবং না। সরাসরি কোনো সম্পর্ক না থাকলেও পরোক্ষভাবে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আপনি যখন ইথেরিয়াম নেটওয়ার্কে কোনো গ্যাস ফি প্রদান করেন, তখন আপনাকে সেটি ইথার বা ওই নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের কয়েন দিয়েই পরিশোধ করতে হয়। ধরুন, একটি লেনদেন করতে আপনার ০.০১ ইথার খরচ হচ্ছে। এখন বাজারে যদি একটি ইথারের দাম ১০০০ ডলার থাকে, তবে আপনার গ্যাস ফি এর আর্থিক মূল্য দাঁড়াচ্ছে ১০ ডলার। কিন্তু যদি ইথারের দাম বেড়ে ৩০০০ ডলার হয়ে যায়, তখন ওই একই ০.০১ ইথার ফি দিতে গিয়ে আপনার পকেট থেকে খরচ হবে ৩০ ডলার।
এছাড়া, যখন কোনো কয়েনের দাম খুব দ্রুত বাড়তে থাকে, তখন বাজারে এক ধরনের কেনা-বেচার হিড়িক পড়ে যায়, যাকে আমরা বুল মার্কেট বা ফোমো বলে থাকি। এই সময় সবাই দ্রুত লেনদেন সম্পন্ন করতে চায় বলে মাইনারদের বেশি ফি অফার করে। ফলে ক্রিপ্টোর দাম বাড়ার সাথে সাথে নেটওয়ার্কের ব্যস্ততা বাড়ে এবং স্বাভাবিকভাবেই গ্যাস ফি আকাশচুম্বী হতে শুরু করে। তাই বিনিয়োগ করার সময় শুধুমাত্র কয়েনের দাম নয়, বরং ওই নেটওয়ার্কের গ্যাস ফি কেমন হতে পারে, সেদিকেও আপনার নজর রাখা উচিত।
আরও পড়ুনঃ ক্রিপ্টো টোকেনের সম্ভাব্য দাম কীভাবে হিসাব করবেন?
গ্যাস ফি কমানোর কিছু কার্যকরী ও স্মার্ট উপায়
গ্যাস ফি সম্পূর্ণভাবে এড়ানো সম্ভব না হলেও, কিছু স্মার্ট কৌশল অবলম্বন করে আপনি আপনার খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারেন। নিচে আপনার জন্য এমন কিছু কার্যকরী টিপস দেওয়া হলো:
প্রথমত, লেনদেন করার সময় নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। সপ্তাহের কিছু নির্দিষ্ট দিনে এবং দিনের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে নেটওয়ার্কে চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। সাধারণত শনি ও রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেন কম থাকে, তাই এই সময় গ্যাস ফি কিছুটা কম পাওয়া যায়। আপনি Etherscan এর মতো ব্লকচেইন এক্সপ্লোরার ব্যবহার করে দেখতে পারেন কখন গ্যাস ফি সবচেয়ে নিচে থাকে এবং সেই অনুযায়ী লেনদেনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, আপনি চাইলে আপনার ওয়ালেট থেকে গ্যাস লিমিট ম্যানুয়ালি কাস্টমাইজ করতে পারেন। তবে এটি করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। আপনি যদি ফি অনেক বেশি কমিয়ে দেন, তবে আপনার লেনদেনটি আটকে যেতে পারে বা ফেইল হতে পারে, এবং সেক্ষেত্রে আপনার দেওয়া সামান্য গ্যাস ফি টুকুও নষ্ট হবে।
নিচের টেবিলে সময় অনুযায়ী গ্যাস ফি কমানোর একটি সাধারণ চিত্র তুলে ধরা হলো:
| দিনের সময় (গ্লোবাল টাইম) | নেটওয়ার্ক ট্রাফিক | গ্যাস ফি এর অবস্থা | লেনদেনের উপযুক্ততা |
| এশিয়ান সেশন (সকাল থেকে দুপুর) | মাঝারি | মাঝারি | সাধারণ লেনদেন করা যেতে পারে |
| ইউরোপিয়ান ও আমেরিকান সেশন (সন্ধ্যা থেকে রাত) | সর্বোচ্চ | সবচেয়ে বেশি | জরুরি না হলে এড়িয়ে চলা ভালো |
| সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শনি ও রবি) | সবচেয়ে কম | সবচেয়ে কম | বড় ধরনের লেনদেন করার সেরা সময় |
লেয়ার ২ সলিউশন: গ্যাস ফি সমস্যার আধুনিক সমাধান
অতিরিক্ত গ্যাস ফি এর এই সমস্যার সবচেয়ে যুগান্তকারী এবং আধুনিক সমাধান হলো লেয়ার ২ বা এলটু নেটওয়ার্ক। ইথেরিয়ামের মতো মূল ব্লকচেইনকে লেয়ার ১ বলা হয়। লেয়ার ২ হলো এমন একটি আলাদা নেটওয়ার্ক যা লেয়ার ১ এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। এটি একসাথে হাজার হাজার লেনদেন নিজের কাছে প্রসেস করে এবং তারপর সবগুলোর একটি চূড়ান্ত হিসাব মূল ব্লকচেইনে বা লেয়ার ১ এ পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে মূল নেটওয়ার্কের ওপর থেকে চাপ একদম কমে যায় এবং ট্রানজ্যাকশন ফি অবিশ্বাস্যভাবে হ্রাস পায়।
সম্প্রতি ইথেরিয়াম নেটওয়ার্কে ডেনকুন আপগ্রেড নামের একটি বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এই আপগ্রেডের পর লেয়ার ২ নেটওয়ার্কগুলোতে গ্যাস ফি প্রায় নব্বই শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। বর্তমানে আপনি যদি আরবিট্রাম, অপটিমিজম বা পলিগন এর মতো জনপ্রিয় লেয়ার ২ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন, তবে একটি সাধারণ লেনদেন করতে আপনার হয়তো এক সেন্টেরও কম খরচ হবে। নতুন অনেক প্রজেক্ট যেমন বেস বা অন্যান্য লেয়ার ২ ট্রানজ্যাকশন ফি কে প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে। আপনি ক্রিপ্টো লেনদেনকে সস্তা করতে L2Beat ওয়েবসাইটে গিয়ে বিভিন্ন লেয়ার ২ প্রজেক্টের লাইভ গ্যাস ফি এবং সিকিউরিটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন। একজন স্মার্ট বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনার সবসময় চেষ্টা করা উচিত মূল নেটওয়ার্কের বদলে এই লেয়ার ২ সলিউশনগুলো ব্যবহার করার।
উপসংহার
ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি বিকেন্দ্রীকৃত ব্যবস্থা, যেখানে আপনার সম্পদের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কেবল আপনারই। কিন্তু এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য আপনাকে এই প্রযুক্তির পেছনের কিছু মৌলিক নিয়মকানুন বুঝতে হবে, যার মধ্যে গ্যাস ফি অন্যতম। গ্যাস ফি কীভাবে কাজ করে এবং কেন এটি বাড়ে, তা না জানলে আপনি হয়তো আপনার লাভের একটি বড় অংশ কেবল নেটওয়ার্ক ফি দিতে গিয়েই হারিয়ে ফেলবেন।
এই আর্টিকেলে আমরা গ্যাস ফি এর মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে নেটওয়ার্ক কনজেশন, স্মার্ট কন্ট্রাক্টের প্রভাব এবং লেয়ার ২ এর মতো আধুনিক সমাধানগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি, এখন থেকে আপনি যখনই কোনো ক্রিপ্টো লেনদেন করবেন, তখন গ্যাস ফি এর বিষয়টি মাথায় রেখে সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং স্মার্ট সিদ্ধান্তটি নিতে পারবেন। প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে এবং ডেনকুন আপগ্রেডের মতো পরিবর্তনগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ক্রিপ্টো লেনদেনকে আরও সহজলভ্য করে তুলছে। তাই বাজারে টিকে থাকতে হলে এবং লাভবান হতে হলে আপনাকেও সবসময় নতুন তথ্যের সাথে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে।

