Oracle কী? ব্লকচেইন ওরাকল কীভাবে কাজ করে?
আপনি যখন ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে পড়াশোনা করেন, তখন স্মার্ট কন্ট্রাক্ট শব্দটি বারবার সামনে আসে। কিন্তু আপনি কি জানেন যে এই স্মার্ট কন্ট্রাক্টগুলো মূলত এক প্রকার অন্ধ সফটওয়্যার? শুনতে অবাক লাগলেও এটি সত্য। ব্লকচেইন নেটওয়ার্কগুলো তাদের নিজস্ব জগতের বাইরে কী ঘটছে তা সরাসরি দেখতে বা জানতে পারে না। ঠিক এই জায়গাতেই প্রয়োজন হয় ওরাকল এর।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ওরাকল হলো একটি সেতুবন্ধন যা ব্লকচেইনের বাইরের বাস্তব জগতের তথ্য বা ডেটা ব্লকচেইনের ভেতরের স্মার্ট কন্ট্রাক্টে পৌঁছে দেয়। ধরুন, আপনি এবং আপনার বন্ধু একটি বাজি ধরলেন যে আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না। এই বাজিটি একটি স্মার্ট কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু ব্লকচেইন তো আর নিজে নিজে আকাশে মেঘ দেখে বুঝতে পারবে না যে বৃষ্টি হয়েছে কি না। এই বৃষ্টির তথ্যটি কোনো একটি নির্ভরযোগ্য আবহাওয়া অফিস থেকে সংগ্রহ করে ব্লকচেইনে পৌঁছে দেওয়াই হলো ওরাকলের কাজ। এটি ছাড়া স্মার্ট কন্ট্রাক্টগুলো কেবল একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে যেত।
কেন ব্লকচেইনের জন্য ওরাকল অপরিহার্য?
ব্লকচেইন প্রযুক্তির একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ডিসেন্ট্রালাইজেশন এবং সিকিউরিটি। ব্লকচেইন নেটওয়ার্কগুলো মূলত ডিটারমিনিস্টিক বা সুনির্দিষ্ট নিয়মে চলে। এর অর্থ হলো, নেটওয়ার্কের প্রতিটি নোড বা কম্পিউটারকে একই তথ্য যাচাই করে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু ইন্টারনেট বা বাইরের জগতের ডেটা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। যদি একটি স্মার্ট কন্ট্রাক্ট সরাসরি কোনো ওয়েবসাইট থেকে ডেটা নিতে যায়, তবে একেকটি নোড একেক সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ডেটা পেতে পারে, যা পুরো নেটওয়ার্কের ঐকমত্য বা কনসেনসাস নষ্ট করে দেবে।
Layer 2 ব্লকচেইন কী জিনিস? কেন এটি ব্যবহার করা জরুরি?
এই সমস্যা সমাধানের জন্য ওরাকল ব্যবহার করা হয়। ওরাকল বাইরের জগৎ থেকে ডেটা সংগ্রহ করে এবং সেটিকে এমনভাবে ব্লকচেইনে ইনপুট দেয় যেন প্রতিটি নোড একই ডেটা দেখতে পায়। এর ফলে স্মার্ট কন্ট্রাক্টগুলো জটিল সব কাজ সম্পাদন করতে পারে, যেমন শেয়ার বাজারের দাম যাচাই করা, ফুটবলের ফলাফল নিশ্চিত করা বা সাপ্লাই চেইনের অবস্থান শনাক্ত করা। ওরাকল ছাড়া আধুনিক ডিসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্স বা ডিফাই জগতের অস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব।
ওরাকল কীভাবে কাজ করে?
ওরাকলের কাজের প্রক্রিয়াটি বেশ কৌশলী এবং ধাপ অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। আপনি যদি এর ভেতরের কলকব্জা বুঝতে চান, তবে একে একটি তথ্য আদান-প্রদানকারী প্রতিনিধি হিসেবে কল্পনা করতে পারেন। ওরাকল নিজে কোনো ডেটা তৈরি করে না, বরং এটি বিভিন্ন সোর্স থেকে ডেটা খুঁজে বের করে, যাচাই করে এবং তারপর সেটিকে স্মার্ট কন্ট্রাক্টের বোঝার উপযোগী করে ইনপুট দেয়।
তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়া
প্রথমেই স্মার্ট কন্ট্রাক্ট থেকে একটি রিকোয়েস্ট বা অনুরোধ পাঠানো হয় যে তার একটি নির্দিষ্ট তথ্যের প্রয়োজন। ওরাকল তখন অফ-চেইন বা ব্লকচেইনের বাইরের বিভিন্ন ডেটা সোর্স যেমন এপিআই (API), সেন্সর বা ডেটাবেস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। যেহেতু ভুল তথ্য স্মার্ট কন্ট্রাক্টের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তাই অনেক ক্ষেত্রে একাধিক সোর্স থেকে তথ্য নিয়ে সেগুলোর গড় বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ডেটা নির্বাচন করা হয়। এরপর সেই তথ্যটি ক্রিপ্টোগ্রাফিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষর করে ব্লকচেইনে পাঠিয়ে দেওয়া হয় যাতে কেউ মাঝপথে তথ্যটি পরিবর্তন করতে না পারে।
ওরাকলের বিভিন্ন প্রকারভেদ
সব ওরাকল একইভাবে কাজ করে না। তথ্যের উৎস এবং সেটি কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে ওরাকলকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। নিচে আপনার বোঝার সুবিধার্থে একটি টেবিল দেওয়া হলো যা বিভিন্ন ধরণের ওরাকলের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরবে।
ওরালকের ধরণ এবং তাদের বৈশিষ্ট্য
| ওরাকলের নাম | ডেটা সোর্স বা উৎস | প্রধান কাজ |
| সফটওয়্যার ওরাকল | অনলাইন তথ্য, এপিআই, ওয়েবসাইট | রিয়েল টাইম ডেটা যেমন মুদ্রার দাম বা নিউজ আপডেট করা। |
| হার্ডওয়্যার ওরাকল | বাস্তব জগতের সেন্সর, আরএফআইডি ট্যাগ | সাপ্লাই চেইনে পণ্যের অবস্থান বা তাপমাত্রা যাচাই করা। |
| ইনবাউন্ড ওরাকল | বাইরের জগৎ থেকে ব্লকচেইনে | স্মার্ট কন্ট্রাক্টকে বাইরের তথ্য সরবরাহ করা। |
| আউটবাউন্ড ওরাকল | ব্লকচেইন থেকে বাইরের জগতে | লেনদেন সম্পন্ন হলে স্মার্ট লক খুলে দেওয়া বা পেমেন্ট নোটিফিকেশন পাঠানো। |
| সেন্ট্রালাইজড ওরাকল | একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা সোর্স | দ্রুত কাজ করে কিন্তু নির্ভরতার ঝুঁকি থাকে। |
| ডিসেন্ট্রালাইজড ওরাকল | একাধিক নোডের নেটওয়ার্ক | অত্যন্ত নিরাপদ এবং জালিয়াতির সুযোগ কম থাকে। |
সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ওরাকলের পার্থক্য
সফটওয়্যার ওরাকল হলো বর্তমান ক্রিপ্টো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওরাকল। এটি ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েব সার্ভার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। যেমন ক্রিপ্টোকারেন্সির বর্তমান দাম কত তা জানার জন্য এই ওরাকল ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে হার্ডওয়্যার ওরাকল কাজ করে বাস্তব জগতের যন্ত্রপাতির সাথে। যেমন একটি স্মার্ট ল্যান্ডিং প্রজেক্টে যদি কোনো খামারি তার জমির আর্দ্রতা মেপে ইনস্যুরেন্স দাবি করতে চান, তবে সেন্সরের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যই হবে হার্ডওয়্যার ওরাকলের ডেটা।
দ্য ওরাকল প্রবলেম: একটি বড় চ্যালেঞ্জ
ওরাকল নিয়ে আলোচনা করতে গেলে ওরাল প্রবলেম বা ওরাকলের সমস্যা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এটি ব্লকচেইন প্রযুক্তির একটি অন্যতম অমীমাংসিত প্যারাডক্স। ব্লকচেইন নিজে বিকেন্দ্রীভূত বা ডিসেন্ট্রালাইজড এবং অত্যন্ত নিরাপদ। কিন্তু যখন আমরা একটি স্মার্ট কন্ট্রাক্ট পরিচালনার জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট ওরাকলের ওপর নির্ভর করি, তখন পুরো সিস্টেমটির নিরাপত্তা সেই ওরাকলের হাতে চলে যায়।
যদি সেই নির্দিষ্ট ওরাকলটি হ্যাক হয় বা ভুল তথ্য প্রদান করে, তবে স্মার্ট কন্ট্রাক্টটি ভুল ফলাফল দেবে। ধরুন, একটি ডিসেন্ট্রালাইজড এক্সচেঞ্জে বিটকয়েনের দাম ভুলভাবে সরবরাহ করা হলো, এর ফলে লিকুইডেশন বা বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। এই কারণেই বর্তমানে একক কোনো সোর্সের বদলে ডিসেন্ট্রালাইজড ওরাকল নেটওয়ার্কের ব্যবহার বাড়ছে। Chainlink (https://chain.link/) এর মতো প্রজেক্টগুলো এই সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছে যেখানে শত শত নোড মিলে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে। এর ফলে কোনো একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলেই পুরো সিস্টেমকে প্রভাবিত করতে পারে না।
বিভিন্ন খাতে ওরাকলের বাস্তব ব্যবহার
ওরাকল প্রযুক্তি কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়, বরং এটি বর্তমানে ব্লকচেইন ইকোসিস্টেমের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। আপনি যখন কোনো ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মে লেনদেন করেন বা কোনো বিকেন্দ্রীভূত অ্যাপ ব্যবহার করেন, তখন পর্দার আড়ালে কোনো না কোনো ওরাকল কাজ করে যাচ্ছে। নিচে এর কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যবহার ক্ষেত্র তুলে ধরা হলো।
ডিসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্স বা ডিফাই
ডিফাই সেক্টরে ওরাকলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এখানে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সির নিখুঁত বাজার দর জানার প্রয়োজন হয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি এএভিই (https://aave.com/) বা কম্পাউন্ডের মতো প্ল্যাটফর্মে আপনার ক্রিপ্টো জমা রেখে লোন নিতে চান, তবে সিস্টেমটিকে জানতে হবে আপনার জমানো সম্পদের বর্তমান মূল্য কত। এই মূল্যের তথ্য সরবরাহ করে ওরাকল। যদি কোনো কারণে ওরাকল ভুল তথ্য দেয়, তবে আপনার লোনটি ভুলভাবে লিকুইডেশন বা বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সিনথেটিক্স (https://synthetix.io/) এর মতো প্রোটোকলগুলোও বাস্তব জগতের সম্পদ যেমন সোনা বা ডলারের দাম ট্র্যাক করতে ওরাকল ব্যবহার করে।
প্যারামেট্রিক ইন্স্যুরেন্স বা বীমা
বীমা খাতে ওরাকল এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। প্রথাগত বীমায় কোনো ক্ষতিপূরণ পেতে হলে আপনাকে অনেক নথিপত্র জমা দিতে হয় এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ওরাকলের মাধ্যমে এটি স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব। ধরুন, একজন কৃষক তার ফসলের জন্য আবহাওয়ার বীমা করেছেন। যদি আবহাওয়া অফিসের ডেটা অনুযায়ী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে যায়, তবে ওরাকল সেই তথ্য স্মার্ট কন্ট্রাক্টে পাঠিয়ে দেবে এবং কোনো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই কৃষকের অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণ পৌঁছে যাবে।
গেমিং এবং এনএফটি
অনলাইন গেমিং এবং এনএফটি প্রজেক্টগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ওরাকলের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে কোনো গেমে যখন লটারি বা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে পুরস্কার দেওয়া হয়, তখন সেই ফলাফলটি যেন সত্যিই র্যান্ডম বা এলোমেলো হয় তা নিশ্চিত করতে ওরাকল ভেরিফিয়েবল র্যান্ডমনেস ফাংশন বা ভিআরএফ প্রদান করে। এটি নিশ্চিত করে যে গেমের ডেভেলপার বা অন্য কেউ ফলাফলটি আগে থেকে জানত না বা প্রভাবিত করেনি।
শীর্ষস্থানীয় কিছু ওরাকল প্রজেক্ট
বর্তমান বাজারে বেশ কিছু ওরাকল প্রজেক্ট তাদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। আপনি যদি এই খাতে বিনিয়োগ করতে চান বা ডেভেলপার হিসেবে কাজ করতে চান, তবে এই প্রজেক্টগুলো সম্পর্কে জানা আপনার জন্য জরুরি।
চেইনলিংক (Chainlink)
ওরাকল জগতের অবিসংবাদিত নেতা হলো চেইনলিংক (https://chain.link/)। এটি একটি ডিসেন্ট্রালাইজড ওরাকল নেটওয়ার্ক যা শত শত নোডের মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে। চেইনলিংক বর্তমানে গুগল এবং সুইফটের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সাথেও কাজ করছে। এদের প্রধান শক্তি হলো সিকিউরিটি এবং নির্ভরযোগ্যতা। আপনি যখন বড় কোনো ডিফাই প্রজেক্টের নাম শুনবেন, ধরে নিতে পারেন তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চেইনলিংক ব্যবহার করছে।
ব্যান্ড প্রোটোকল এবং পাইথ নেটওয়ার্ক
ব্যান্ড প্রোটোকল (https://bandprotocol.com/) হলো কসমস নেটওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ওরাকল যা অত্যন্ত দ্রুত এবং কম খরচে ডেটা সরবরাহ করতে পারে। এটি ক্রস-চেইন ডেটা ট্রান্সফারের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে পাইথ নেটওয়ার্ক (https://pyth.network/) বিশেষভাবে হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং ডেটার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি সোলানা ব্লকচেইনে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সরাসরি বিশ্বের বড় বড় ট্রেডিং ফার্ম থেকে ডেটা সংগ্রহ করে থাকে।
আরও পড়ুনঃ Smart Contract কী ? স্মার্ট কন্ট্রাক্ট কীভাবে কাজ করে?
জনপ্রিয় ওরাকল প্রজেক্টের তুলনামূলক চিত্র
নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে শীর্ষ তিনটি ওরাকল প্রজেক্টের প্রধান পার্থক্যগুলো দেখানো হলো।
| প্রজেক্টের নাম | ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক | প্রধান বিশেষত্ব |
| চেইনলিংক (Chainlink) | মাল্টি-চেইন (ইথেরিয়াম প্রধান) | সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং বিশাল ইকোসিস্টেম। |
| ব্যান্ড প্রোটোকল (Band) | কসমস (Cosmos) | দ্রুত ট্রানজ্যাকশন এবং কম গ্যাস ফি। |
| পাইথ নেটওয়ার্ক (Pyth) | সোলানা (Solana) | রিয়েল-টাইম প্রাতিষ্ঠানিক ফিন্যান্সিয়াল ডেটা। |
ওরাকলের সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
সব ভালো দিকের পাশাপাশি ওরাকলের কিছু অন্ধকার দিকও রয়েছে। আপনি যদি এই প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে চান, তবে আপনাকে এর সীমাবদ্ধতাগুলো সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে।
ওরাকলের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ডেটা ম্যানিপুলেশন বা তথ্য জালিয়াতি। যদি কোনো হ্যাকার ওরাকলের তথ্যের উৎসটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে সে ভুল তথ্য দিয়ে স্মার্ট কন্ট্রাক্ট থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে পারে। একে বলা হয় ওরাকল ম্যানিপুলেশন অ্যাটাক। অনেক ডিফাই প্রোটোকল অতীতে এই ধরণের হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া ওরাকলের মাধ্যমে তথ্য ব্লকচেইনে আনতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয় যাকে ল্যাটেন্সি বলা হয়। দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজারের জন্য এই কয়েক সেকেন্ডের দেরিও মাঝে মাঝে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। শেষমেশ, একটি ভালো ওরাকল সার্ভিস ব্যবহার করা বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে যা ছোট প্রজেক্টগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
উপসংহার
ওরাকল প্রযুক্তি এখন আর কেবল একটি সহায়ক টুল নয়, এটি ওয়েব ৩.০ এর এক অপরিহার্য স্তম্ভ। আমরা যত বেশি বাস্তব জগতকে ব্লকচেইনের সাথে যুক্ত করছি, ওরাকলের গুরুত্ব ততটাই বাড়ছে। ভবিষ্যতে আমরা হয়তো দেখবো যে আমাদের আইনি চুক্তি, রিয়েল এস্টেট লেনদেন এবং সরকারি সেবাগুলোও ওরাকল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
আপনি যদি একজন বিনিয়োগকারী বা প্রযুক্তি উৎসাহী হন, তবে ওরাকল প্রজেক্টগুলোর উন্নয়নের দিকে নজর রাখা আপনার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে, কিন্তু প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা হচ্ছে। ব্লকচেইন যদি একটি কম্পিউটার হয়, তবে ওরাকল হলো এর ইন্টারনেট কানেকশন। কানেকশন ছাড়া কম্পিউটার যেমন অচল, ওরাকল ছাড়াও ব্লকচেইন তার পূর্ণ সম্ভাবনা প্রকাশ করতে পারবে না।
আশা করি এই দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে আপনি ওরাকলের আদ্যোপান্ত বুঝতে পেরেছেন। প্রযুক্তির এই পরিবর্তনশীল সময়ে সঠিক তথ্যই আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ। ওরাকল সম্পর্কে আপনার যদি আরও কোনো প্রশ্ন থাকে বা কোনো নির্দিষ্ট প্রজেক্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে চান, তবে আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে পারেন। ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় আপনার জ্ঞানই আপনাকে সফলতার পথে নিয়ে যাবে।

