Bitcoin Halving কী ? ক্রিপ্টো বাজারে এর প্রভাব কী? জানুন বিস্তারিত
ক্রিপ্টোকারেন্সির দুনিয়ায় বিটকয়েন এখন সবার মুখে মুখেই আলোচিত হয়। কখনো এর দাম রকেটের গতিতে বাড়ে, আবার কখনো ধপ করে নিচে নামে। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই দাম ওঠানামার পেছনে একটি নির্দিষ্ট টেকনিক্যাল ঘটনা বা ইভেন্ট সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে? সেটি হলো বিটকয়েন হালভিং। নতুন বিনিয়োগকারী বা সাধারণ মানুষ অনেকেই বুঝতে পারেন না আসলে Bitcoin Halving কী এবং কেন একে ক্রিপ্টো দুনিয়ার ‘বিশ্বকাপ’ বা অলিম্পিকের সাথে তুলনা করা হয়।
সহজ কথায়, এটি এমন একটি ঘটনা যা বিটকয়েনের জন্মলগ্ন থেকেই এর কোডিংয়ে লিখে দেওয়া হয়েছে, যা প্রতি চার বছর পর পর ঘটে এবং পুরো বাজারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আপনি যদি ক্রিপ্টো মার্কেটে বিনিয়োগ করতে চান কিংবা প্রযুক্তিটি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন, তবে হালভিং সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি।
সেই লক্ষেই ক্রিপ্টোজানালা‘র আজকের এই আর্টিকেলে আমরা খুব সহজ ভাষায় জানব Bitcoin Halving কী আসলে ?, কেন এটি করা হয় এবং ২০২৪ সালের সর্বশেষ হালভিংয়ের পর বাজারে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কেমন হতে পারে। তাহলে, শুরু করা যাক!!
Bitcoin Halving কী আসলে?
বইয়ের কঠিন কঠিন সংজ্ঞায় না গিয়ে চলুন একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক। মনে করুন, একটি সোনার খনি আছে। শুরুতে সেখান থেকে মাটি খুঁড়লেই সহজে সোনা পাওয়া যেত। কিন্তু যত সময় যাচ্ছে, মাটির গভীরে যেতে হচ্ছে এবং সোনা পাওয়া ততই কঠিন হচ্ছে। বিটকয়েনকেও প্রায়ই ‘ডিজিটাল গোল্ড’ বা স্বর্ণ বলা হয়, আর হালভিং হলো সেই প্রক্রিয়া যা এই ডিজিটাল স্বর্ণের সরবরাহ ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়।
বিটকয়েনের জনক সাতোশি নাকামোতো যখন এটি তৈরি করেন, তিনি এর মোট সরবরাহ বা সাপ্লাই ২১ মিলিয়নে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, পৃথিবীতে ২১ মিলিয়নের বেশি বিটকয়েন কখনোই থাকবে না। এই বিটকয়েনগুলো মার্কেটে আসে ‘মাইনিং’ নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। মাইনাররা শক্তিশালী কম্পিউটার ব্যবহার করে জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে এবং পুরস্কার হিসেবে বিটকয়েন পায়।
আরও পড়ুনঃ ক্রিপ্টোকারেন্সি কী? ক্রিপ্টোকারেন্সি কীভাবেই বা কাজ করে? (2025)
তাহলে মূল প্রশ্নে আসি, Bitcoin Halving কী? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে মাইনারদের প্রাপ্ত সেই পুরস্কারের মধ্যেই। বিটকয়েনের প্রোটোকল বা নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ২,১০,০০০ ব্লক মাইন হওয়ার পর (যা সম্পন্ন হতে সময় লাগে প্রায় ৪ বছর), মাইনারদের পুরস্কার বা রিওয়ার্ড ঠিক অর্ধেক করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, আগে যদি মাইনাররা একটি ব্লক সমাধানের জন্য ৫০টি বিটকয়েন পেত, হালভিংয়ের পর তা কমে ২৫টিতে নেমে আসে। এভাবেই প্রতি চার বছর অন্তর বিটকয়েনের নতুন উৎপাদন অর্ধেক হয়ে যায়, একেই বলা হয় বিটকয়েন হালভিং। মূলত মুদ্রাস্ফীতি রোধ করতে এবং সময়ের সাথে সাথে বিটকয়েনের দুষ্প্রাপ্যতা (Scarcity) বজায় রাখতেই এই চমৎকার পদ্ধতিটি তৈরি করা হয়েছে।
Bitcoin Halving কী ? বিটকয়েন হালভিং কেন করা হয়?

বিটকয়েন হালভিং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে হলে আমাদের সাধারণ টাকা বা ফিয়াট কারেন্সির (যেমন: টাকা, ডলার) স্বভাব বুঝতে হবে। সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইলে দেশের অর্থনীতির প্রয়োজনে যত খুশি টাকা ছাপাতে পারে। এর ফলে বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়ে যায় এবং টাকার মান কমে যায়, যাকে আমরা মুদ্রাস্ফীতি বা Inflation বলি। কিন্তু বিটকয়েনের ক্ষেত্রে নিয়মটি সম্পূর্ণ উল্টো।
বিটকয়েনের জনক সাতোশি নাকামোতো চেয়েছিলেন এমন একটি ডিজিটাল মুদ্রা তৈরি করতে, যা কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না এবং যার মান সময়ের সাথে সাথে কমে না গিয়ে বরং বাড়বে। আর ঠিক এই কারণেই বিটকয়েন হালভিং মেকানিজমটি তৈরি করা হয়েছে। হালভিং নিশ্চিত করে যে, নতুন বিটকয়েন বাজারে আসার গতি সময়ের সাথে কমে আসবে।
অর্থনীতির সাধারণ সূত্র বলে, যখন কোনো জিনিসের জোগান (Supply) কমে যায় কিন্তু চাহিদা (Demand) একই থাকে বা বাড়ে, তখন তার দাম বাড়তে বাধ্য। Bitcoin Halving কী এই প্রশ্নের উত্তর জানার পাশাপাশি এটি মনে রাখা জরুরি যে, হালভিং বিটকয়েনকে দুষ্প্রাপ্য (Scarce) করে তোলে। স্বর্ণের মতো সীমিত জোগান নিশ্চিত করার মাধ্যমেই বিটকয়েনকে দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি-রোধী বা ডিফ্লেশনারি (Deflationary) সম্পদ হিসেবে টিকিয়ে রাখা হয়।
আরও পড়ুনঃ NFT কি ? NFT কিভাবে কাজ করে? ক্রিপ্টোকারেন্সির সাথে সম্পর্ক কী?
বিটকয়েন হালভিংয়ের ইতিহাস ও পরিসংখ্যান
অতীতের ডেটা বা পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিটকয়েনের দামের নাটকীয় পরিবর্তনের সাথে হালভিং ইভেন্টের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিটকয়েন নেটওয়ার্ক চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট চারটি হালভিং সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি হালভিংয়ের পরেই ক্রিপ্টো বাজারে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন বা ‘বুল রান’ (Bull Run) লক্ষ্য করা গেছে।
প্রথম হালভিং হয়েছিল ২০১২ সালে, যখন ব্লক রিওয়ার্ড ৫০ বিটকয়েন থেকে কমে ২৫ বিটকয়েন হয়েছিল। এরপর ২০১৬ এবং ২০২০ সালেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে চতুর্থ বিটকয়েন হালভিং সম্পন্ন হয়েছে, যার মাধ্যমে মাইনারদের পুরস্কার ৬.২৫ বিটকয়েন থেকে কমে ৩.১২৫ বিটকয়েনে নেমে এসেছে। আগের ইতিহাস বলে, হালভিংয়ের প্রভাব ঠিক সাথে সাথেই বাজারে দেখা যায় না; বরং হালভিং পরবর্তী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বিটকয়েন তার সর্বোচ্চ দামে পৌঁছানোর প্রবণতা দেখায়।
নিচে বিটকয়েন হালভিংয়ের ইতিহাস এবং এর প্রভাব নিয়ে একটি ছোট তালিকা দেওয়া হলো:
| হালভিং সাল | ব্লকের রিওয়ার্ড (আগে) | ব্লকের রিওয়ার্ড (পরে) | বাজারের প্রভাব |
| ২০১২ (১ম হালভিং) | ৫০ BTC | ২৫ BTC | পরবর্তী ১ বছরে বিটকয়েনের দাম প্রায় ৮০০০% বৃদ্ধি পেয়েছিল। |
| ২০১৬ (২য় হালভিং) | ২৫ BTC | ১২.৫ BTC | হালভিংয়ের প্রায় দেড় বছর পর বিটকয়েন ২০,০০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে। |
| ২০২০ (৩য় হালভিং) | ১২.৫ BTC | ৬.২৫ BTC | ২০২১ সালে বিটকয়েন ৬৯,০০০ ডলারের অল-টাইম হাই (ATH) তৈরি করে। |
| ২০২৪ (৪র্থ হালভিং) | ৬.২৫ BTC | ৩.১২৫ BTC | সাপ্লাই শক এবং ইটিএফ (ETF) অনুমোদনের ফলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব। |
এই পরিসংখ্যানগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, প্রতিবার হালভিং বা সাপ্লাই কমার পর বিটকয়েনের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর একটি ঐতিহাসিক প্যাটার্ন বা ধারা বজায় রেখেছে।

বিটকয়েন হালভিং কীভাবে কাজ করে?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এই হালভিং প্রক্রিয়াটি কে নিয়ন্ত্রণ করে? কোনো মানুষ বা প্রতিষ্ঠান কি কম্পিউটার বাটন চেপে এটি করে? উত্তর হলো, না। এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় একটি প্রক্রিয়া যা বিটকয়েনের সোর্স কোডের গভীরে লেখা রয়েছে।
সহজ ভাষায় বিষয়টি বোঝা যাক। বিটকয়েন নেটওয়ার্ক টিকে আছে ‘ব্লকচেইন’ প্রযুক্তির ওপর, আর এই নেটওয়ার্ক সচল রাখেন ‘মাইনার’রা। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মাইনার তাদের শক্তিশালী কম্পিউটার ব্যবহার করে নেটওয়ার্কের লেনদেনগুলো ভেরিফাই করেন এবং একটি ‘ব্লক’-এ লিপিবদ্ধ করেন। এই কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে বিটকয়েন প্রোটোকল তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ বিটকয়েন পুরস্কার দেয়, যাকে বলা হয় ‘ব্লক রিওয়ার্ড’।
বিটকয়েনের কোডিংয়ে শর্ত দেওয়া আছে যে, প্রতি ২,১০,০০০ তম ব্লক চেইনে যুক্ত হওয়ার সাথে সাথেই এই রিওয়ার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্ধেক হয়ে যাবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি গাণিতিকভাবে সেট করা, তাই এতে বাইরের কারো হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত বিটকয়েন নেটওয়ার্ক সচল থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতি ৪ বছর পর পর এই নিয়মে হালভিং চলতে থাকবে, যা আনুমানিক ২১৪০ সাল পর্যন্ত চলবে। ততদিন পর্যন্ত, যতক্ষণ না শেষ বিটকয়েনটি মাইন করা হয়।
আরও পড়ুনঃ ক্রিপ্টোকারেন্সী কি বাংলাদেশে অবৈধ ? ঝুঁকি ও বাস্তবতা কেমন? (2025)
ক্রিপ্টো বাজারে বিটকয়েন হালভিংয়ের প্রভাব

ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে বিটকয়েন হালভিং একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘটনা। বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে মাইনার সবার নজর থাকে এই সময়ের দিকে। বাজারে এর প্রভাব মূলত তিনটি প্রধান দিক থেকে দেখা যায়:
১. সাপ্লাই শক ও দামের ঊর্ধ্বগতি (Price Action):
অর্থনীতির সাধারণ নিয়ম হলো, যখন বাজারে কোনো পণ্যের নতুন জোগান বা সাপ্লাই হঠাৎ কমে যায়, তখন তার দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়। হালভিংয়ের ফলে বিটকয়েনের দৈনিক উৎপাদন অর্ধেক হয়ে যায়। একে বলা হয় ‘সাপ্লাই শক’ (Supply Shock)। যদি বিটকয়েনের চাহিদা আগের মতো থাকে বা বাড়ে, আর জোগান কমে যায়, তবে দীর্ঘমেয়াদে দাম বাড়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়। ঐতিহাসিক চার্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিটি হালভিংয়ের ঠিক পরপরই নয়, বরং পরবর্তী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বিটকয়েন একটি বড় ‘বুল রান’ (Bull Run) বা উর্ধ্বমুখী দৌড় দেয়।
২. মাইনারদের লাভ ও টিকে থাকার লড়াই:
হালভিংয়ের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে মাইনারদের ওপর। রাতারাতি তাদের আয় অর্ধেক হয়ে যায়। ফলে যাদের বিদ্যুত খরচ বেশি এবং পুরনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন, তারা লোকসানে পড়ে মাইন করা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। একে বলা হয় ‘মাইনার ক্যাপিচুলেশন’ (Miner Capitulation)। তবে বড় কোম্পানিগুলো যারা আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে, তারা টিকে থাকে। ফলে নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে কিছুটা ধীর হলেও পরবর্তীতে আবারও স্থিতিশীল হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ Crypto Wallet কী ? Hot Wallet এবং Cold Wallet নিয়ে বিস্তারিত জানুন
৩. অল্টকয়েন বা অন্যান্য ক্রিপ্টোর ওপর প্রভাব:
বিটকয়েন হলো ক্রিপ্টো মার্কেটের রাজা। বিটকয়েনের দাম বাড়লে সাধারণত ইথিরিয়াম, সোলানা বা অন্য অল্টকয়েনগুলোর দামও বাড়তে শুরু করে। হালভিং পরবর্তী সময়ে যখন বিটকয়েনের দাম স্থিতিশীল হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা লাভের টাকা অন্যান্য ছোট কয়েনে বিনিয়োগ করেন, যার ফলে ‘অল্টকয়েন সিজন’ (Altcoin Season) শুরু হতে দেখা যায়। তবে মনে রাখবেন, হালভিংয়ের আগে ও পরে বাজার অত্যন্ত অস্থিতিশীল (Volatile) থাকতে পারে, তাই হুট করে দাম কমা বা বাড়া স্বাভাবিক ঘটনা।
বিনিয়োগকারীদের জন্য করণীয় কী?
বিটকয়েন হালভিং শব্দটি শুনলেই নতুন বিনিয়োগকারীরা অনেক সময় ভাবেন, “আজ কিনব আর কালই বোধহয় দাম দ্বিগুণ হয়ে যাবে।” কিন্তু বাস্তবতা সব সময় এত সরল হয় না। একজন সচেতন বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনাকে আবেগের বশবর্তী না হয়ে যুক্তিবাদী হতে হবে। ক্রিপ্টো মার্কেটে একটি প্রচলিত শব্দ আছে ‘FOMO’ (Fear Of Missing Out) বা সুযোগ হারানোর ভয়ে হুজুগে বিনিয়োগ করা। হালভিংয়ের সময় এই ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।
মনে রাখবেন, হালভিং ইভেন্টের ঠিক পরপরই দাম রকেটের গতিতে বাড়ে না। অনেক সময় ‘Sell the news’ ইভেন্ট হিসেবে দাম সাময়িকভাবে কমেও যেতে পারে। বাজার এই সময় অত্যন্ত অস্থিতিশীল থাকে। তাই ধারের টাকায়, ইমার্জেন্সি ফান্ডের টাকায় বা নিজের সবটুকু সঞ্চয় দিয়ে কখনোই ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদী ট্রেডিংয়ের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ বা ‘HODL’ স্ট্র্যাটেজি এই সময়ে বেশি নিরাপদ। ইতিহাসের গ্রাফ বলছে, যারা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন, তারাই শেষ পর্যন্ত হালভিংয়ের সুফল ঘরে তুলেছেন। তবে অর্থনীতির চিরন্তন সত্য হলো “অতীতের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেয় না।” তাই অন্যের কথায় কান না দিয়ে নিজের রিসার্চ করুন এবং বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিন।
আরও পড়ুনঃ Testnet ও Mainnet কী ? টেস্টনেট থেকে কি আদৌ আয় করা যায়?
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, Bitcoin Halving কী তা জানা শুধু ট্রেডারদের জন্য নয়, যারা আধুনিক অর্থনীতি ও ফিনটেক জগত নিয়ে আগ্রহী তাদের জন্যও অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল একটি টেকনিক্যাল ঘটনা নয়, বরং এটি বিটকয়েনের মুদ্রানীতির বা মনিটারি পলিসির মেরুদণ্ড। এই চমৎকার গাণিতিক প্রক্রিয়াটিই বিটকয়েনকে সাধারণ কাগুজে মুদ্রা বা ফিয়াট কারেন্সির চেয়ে আলাদা এবং দুষ্প্রাপ্য সম্পদে পরিণত করেছে।
যেহেতু আমরা ২০২৪ সালের হালভিং পরবর্তী সাইকেলে অবস্থান করছি, তাই আগামী দিনগুলোতে ক্রিপ্টো বাজার কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখা বেশ রোমাঞ্চকর হবে। ২০২৮ সালে পরবর্তী হালভিং পর্যন্ত এই প্রযুক্তি ও বাজার আমাদের আর কী কী চমক দেখায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আপনার কি মনে হয়, বিটকয়েন কি ভবিষ্যতে বিশ্ব অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বা ‘ফিউচার গোল্ড’ হতে পারবে? নাকি এটি শুধুই ইন্টারনেটের ট্রেন্ড? আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানাতে ভুলবেন না কিন্তু!
