কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় ? NFT তৈরির পূর্ণাঙ্গ গাইড ২০২৫
বর্তমান ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে শিল্প এবং সম্পদের ধারণা পুরোপুরি বদলে গেছে। আগে যেখানে শিল্পকর্ম কেবল প্রদর্শনীতে বা ব্যক্তিগত সংগ্রহে সীমাবদ্ধ থাকত, এখন তা ব্লকচেইন প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এনএফটি বা নন-ফাঞ্জিবল টোকেন। আপনি যদি একজন ডিজিটাল আর্টিস্ট, মিউজিশিয়ান বা সাধারণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে থাকেন, তবে আপনার মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে যে কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় এবং এটি ব্যবহার করে কীভাবে নিজের কাজের মালিকানা রক্ষা করা সম্ভব। ইন্টারনেটের মাধ্যমে উপার্জনের এই নতুন দিগন্ত কেবল আপনার সৃজনশীলতাকে মূল্যায়ন করে না, বরং এটি আপনাকে একটি বৈশ্বিক পরিচিতিও এনে দেয়। ২০২৫ সালে এসে এনএফটির জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক নতুন শিল্পী এই খাতে পা রাখছেন।
তাই ক্রিপ্টোজানালা‘র আজকের আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করব এই আধুনিক ডিজিটাল সম্পদ তৈরির সকল খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে। তাহলে চলুন, শুরু করা যাক!
এনএফটি আসলে কী?

এনএফটি বা নন-ফাঞ্জিবল টোকেন হলো এমন একটি ডিজিটাল সম্পদ যা ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সহজ কথায় বললে, এটি ডিজিটাল জগতের একটি ইউনিক বা অনন্য সার্টিফিকেট যা প্রমাণ করে যে কোনো নির্দিষ্ট ছবি, ভিডিও বা মিউজিকের প্রকৃত মালিক আপনি। সাধারণ টাকার নোট বা বিটকয়েন হলো ফাঞ্জিবল, অর্থাৎ একটির বদলে অন্যটি বিনিময় করা যায় কারণ তাদের মূল্য সমান। কিন্তু একটি এনএফটি অন্যটির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এদের কোনোটির সাথে অন্যটির মিল থাকে না।
আরও পড়ুনঃ Exchange এবং Web3 Wallet এর মধ্যে পার্থক্য কী?
নন-ফাঞ্জিবল টোকেন কী?
যখন আপনি জানতে চাইবেন কিভাবে NFT তৈরি করতে হয়, তখন আপনাকে প্রথমেই বুঝতে হবে যে এটি কোনো সাধারণ ফাইল নয় বরং এটি একটি স্মার্ট কন্ট্রাক্ট যা ব্লকচেইনে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল সম্পদের কপিরাইট বা মালিকানা নিয়ে কোনো দ্বিধা থাকে না। কেউ যদি আপনার ডিজিটাল আর্টটি কপিও করে, তবুও মূল সম্পদ এবং এর মালিকানা কেবল আপনার নামেই রেকর্ড করা থাকবে। এই বিশেষত্বের কারণেই সারা বিশ্বে ডিজিটাল সংগ্রাহকদের কাছে এর কদর দিন দিন বাড়ছে। ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক এই ডিজিটাল সম্পদের সত্যতা যাচাই করে যা একে জালিয়াতিমুক্ত এবং চিরস্থায়ী করে তোলে। মূলত ডিজিটাল এসেট ওনারশিপের এই আধুনিক পদ্ধতিই হলো এনএফটি।
কেন আপনি এনএফটি তৈরি করবেন?
এনএফটি তৈরির পেছনে প্রধান কারণ হলো নিজের মেধা ও সৃজনশীলতার সঠিক মূল্যায়ন পাওয়া। প্রথাগত আর্ট গ্যালারিতে কাজ প্রদর্শনী বা বিক্রির সুযোগ পাওয়া বেশ কঠিন হলেও এনএফটি মার্কেটপ্লেসগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত। এখানে আপনি সরাসরি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সংগ্রাহকদের কাছে নিজের কাজ পৌঁছে দিতে পারেন। এছাড়া এনএফটির একটি বড় সুবিধা হলো রয়্যালটি সুবিধা। যখন আপনার তৈরি করা কোনো কাজ ভবিষ্যতে অন্য কারো কাছে পুনরায় বিক্রি হবে, তখন আপনি সেই বিক্রয়মূল্যের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ কমিশন হিসেবে পাবেন। এটি শিল্পীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আয়ের একটি অনন্য উৎস তৈরি করে। আপনি যখন শিখবেন কিভাবে NFT তৈরি করতে হয়, তখন আপনি কেবল একটি ফাইল তৈরি করছেন না বরং আপনি নিজের কাজের স্থায়ী কপিরাইট নিশ্চিত করছেন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের ঝামেলা ছাড়াই আপনি আপনার ডিজিটাল সম্পদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে পারেন।
NFT তৈরির আগে যা যা প্রয়োজন
প্রযুক্তিগত এই যাত্রায় প্রবেশ করার আগে আপনার কাছে কিছু জরুরি ডিজিটাল সরঞ্জাম থাকা প্রয়োজন। প্রথমেই আপনাকে একটি ইউনিক ডিজিটাল ফাইল প্রস্তুত করতে হবে যা আপনি এনএফটি হিসেবে রূপান্তর করতে চান। এটি হতে পারে একটি দারুণ ছবি, ভিডিও ক্লিপ, মিউজিক ফাইল বা এমনকি কোনো বিশেষ ডিজিটাল ডিজাইন। এরপর আপনার একটি ডিজিটাল ওয়ালেট প্রয়োজন হবে যা ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে পারে। মেটামাস্ক বা ট্রাস্ট ওয়ালেট বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এগুলো ব্যবহার করা বেশ সহজ। এই ওয়ালেটটি আপনার ডিজিটাল সম্পদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে আপনার উপার্জিত অর্থ এখানেই জমা হবে।
ডিজিটাল সরঞ্জাম ও নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা
ওয়ালেট সেটআপ করার পর আপনার সেখানে সামান্য কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সি জমা রাখতে হবে। ইথেরিয়াম বা সোলানা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে সেই নির্দিষ্ট কারেন্সি আপনার প্রয়োজন হবে যা মূলত গ্যাস ফি বা নেটওয়ার্ক চার্জ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় তার মূল প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগে এই প্রস্তুতিগুলো সম্পন্ন রাখা জরুরি। সঠিক ব্লকচেইন নির্বাচন করাও একটি বড় ধাপ কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই আপনার খরচের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। একবার এই প্রাথমিক বিষয়গুলো গুছিয়ে নিলে আপনি সহজেই আপনার সৃজনশীলতাকে ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে স্থায়ী রূপ দিতে পারবেন। ডিজিটাল এই ফাইলগুলো নিরাপদে সংরক্ষণ করার জন্য একটি বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়াও আপনার সফলতার একটি অংশ।
আরও পড়ুনঃ এয়ারড্রপ কি ? এয়ারড্রপ থেকে ইনকাম করবেন কিভাবে? (2025)
কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় : স্টেপ-বাই-স্টেপ গাইড

এনএফটি তৈরির প্রক্রিয়াটি মূলত প্রযুক্তিগত কিছু ধাপের সমন্বয় যা অনুসরণ করলে আপনার সাধারণ একটি ডিজিটাল ফাইল একটি মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারে। আপনি যখন ভাবছেন কিভাবে NFT তৈরি করতে হয়, তখন আপনাকে প্রথমেই আপনার কাজের মৌলিকত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। একটি উচ্চমানের ছবি, অ্যানিমেশন বা অডিও ফাইল তৈরি করার পর আপনার প্রথম কাজ হলো একটি উপযুক্ত ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক বেছে নেওয়া। ইথেরিয়াম বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হলেও পলিগন বা সোলানা নেটওয়ার্কে খরচ অনেক কম হয়। তাই নতুন হিসেবে আপনি কম খরচের নেটওয়ার্কগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন।
ফাইল প্রস্তুত হওয়ার পর আপনাকে একটি জনপ্রিয় এনএফটি মার্কেটপ্লেস যেমন ওপেন সি বা ম্যাজিক ইডেনে যেতে হবে। সেখানে আপনার আগে থেকে তৈরি করা মেটামাস্ক বা অন্য কোনো ক্রিপ্টো ওয়ালেটটি কানেক্ট বা যুক্ত করতে হবে। ওয়ালেট কানেক্ট হওয়ার পর আপনি ক্রিয়েট অপশনটি খুঁজে পাবেন যেখানে আপনার ডিজিটাল ফাইলটি আপলোড করার জায়গা থাকবে। ফাইলটি আপলোড করার সময় আপনাকে এর একটি আকর্ষণীয় নাম এবং বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করতে হবে। বিবরণটি এমনভাবে লিখুন যেন ক্রেতারা আপনার কাজের পেছনের উদ্দেশ্য বা গল্পটি বুঝতে পারেন। কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় এই প্রক্রিয়ায় মেটাডাটা বা প্রোপার্টিজ যোগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার এনএফটির বিরলতা বা র্যারিটি নির্ধারণ করে যা ভবিষ্যতে এর দাম বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
সবগুলো তথ্য সঠিক ভাবে ইনপুট দেওয়ার পর আপনাকে মিন্টিং অপশনটি বেছে নিতে হবে। মিন্টিং মূলত একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনার ফাইলটি ব্লকচেইনে স্থায়ীভাবে রেকর্ড করা হয়। এই পর্যায়ে আপনার ওয়ালেট থেকে সামান্য কিছু নেটওয়ার্ক ফি বা গ্যাস ফি চার্জ করা হতে পারে। আপনি যদি পলিগন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন তবে অনেক ক্ষেত্রে গ্যাস ফি ছাড়াই আপনার কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন। মিন্ট বাটনে ক্লিক করার পর আপনার ওয়ালেটে একটি ট্রানজ্যাকশন কনফার্মেশন আসবে যেখানে আপনাকে ডিজিটাল সিগনেচার দিয়ে অনুমোদন দিতে হবে। অনুমোদন দেওয়া হয়ে গেলে অভিনন্দন, আপনি সফলভাবে আপনার প্রথম ডিজিটাল সম্পদটি তৈরি করে ফেলেছেন। এখন এটি মার্কেটপ্লেসে তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে আপনি বিক্রির জন্য অফার করতে পারেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ধৈর্য ধরে সম্পন্ন করলে আপনি খুব সহজেই ডিজিটাল সম্পদের মালিক হয়ে উঠতে পারবেন।
এই তাত্বিক আলোচনার পরেও যাদের বুঝতে কষ্ট হচ্ছে, তারা নিচে দেয়া ইউটিউব ভিডিওটি অনুসরণ করে কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় তা তো জানবেনই নিজে বানিয়ে নিতে পারবেন পছন্দের কোনো NFT…
কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় ? NFT মার্কেটপ্লেস ও ব্লকচেইন
সফলভাবে এনএফটি তৈরি এবং বিক্রির জন্য সঠিক প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রতিটি মার্কেটপ্লেসের নিজস্ব নিয়ম এবং ব্যবহারকারী গোষ্ঠী থাকে। আপনি যদি জানতে চান কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় এবং কোথায় সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করা যায়, তবে আপনাকে বর্তমানের শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্মগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। ওপেন সি বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস যেখানে প্রায় সব ধরণের ডিজিটাল সম্পদ কেনাবেচা করা যায়। অন্যদিকে যারা সোলানা নেটওয়ার্ক পছন্দ করেন তাদের জন্য ম্যাজিক ইডেন সেরা বিকল্প হিসেবে পরিচিত। নিচে প্রধান মার্কেটপ্লেসগুলোর একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ূনঃ ক্রিপ্টোকারেন্সী কি বাংলাদেশে অবৈধ ? ঝুঁকি ও বাস্তবতা কেমন? (2025)
| মার্কেটপ্লেস | ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক | প্রধান সুবিধা |
| ওপেন সি (OpenSea) | ইথেরিয়াম/পলিগন | বিশাল ইউজার বেজ ও সহজ ইউজার ইন্টারফেস। |
| ম্যাজিক ইডেন (Magic Eden) | সোলানা/বিটকয়েন | অত্যন্ত দ্রুত লেনদেন এবং খুব কম গ্যাস ফি। |
| রেয়ারিবল (Rarible) | মাল্টি-চেইন | ক্রিয়েটরদের জন্য শক্তিশালী কমিউনিটি সাপোর্ট। |
| ফাউন্ডেশন (Foundation) | ইথেরিয়াম | প্রিমিয়াম এবং উচ্চমানের শিল্পের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। |
এই মার্কেটপ্লেসগুলোর মধ্যে পার্থক্য মূলত তাদের নেটওয়ার্ক ফি এবং শিল্পকর্মের ধরণের ওপর নির্ভর করে। আপনি যদি নতুন এবং স্বাধীন শিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করতে চান তবে পলিগন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ওপেন সি-তে কাজ করা আপনার জন্য সাশ্রয়ী হবে। কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় তা শেখার সময় এই মার্কেটপ্লেসগুলো নিয়মিত ভিজিট করা উচিত যাতে আপনি বর্তমান ট্রেন্ড এবং সংগ্রাহকদের চাহিদা সম্পর্কে ভালো জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। সঠিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নিলে আপনার ডিজিটাল সম্পদ বিক্রির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
মিন্টিং এবং গ্যাস ফি
মিন্টিং হলো একটি বিশেষ কারিগরি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনার তৈরি করা সাধারণ ডিজিটাল ফাইলটি ব্লকচেইনের একটি অংশে পরিণত হয় এবং একটি অনন্য টোকেন আইডি লাভ করে। এই কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ব্লকচেইন নেটওয়ার্ককে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সার্ভিস চার্জ দিতে হয় যাকে ক্রিপ্টো জগতের ভাষায় গ্যাস ফি বলা হয়। মূলত নেটওয়ার্কের ভেতরে আপনার তথ্যগুলো প্রসেস এবং ভেরিফাই করার জন্য এই ফি প্রদান করতে হয়। যারা নতুন করে শিখছেন কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় তাদের জন্য গ্যাস ফি একটি বড় চিন্তার কারণ হতে পারে কারণ ইথেরিয়ামের মতো নেটওয়ার্কে অনেক সময় এই ফি বেশ চড়া হয়ে থাকে। তবে আপনি যদি দিনের এমন সময়ে মিন্টিং করেন যখন নেটওয়ার্কে ট্রাফিক কম থাকে তবে এই খরচ কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।
আরও পড়ূনঃ Crypto Wallet কী ? Hot Wallet এবং Cold Wallet নিয়ে বিস্তারিত জানুন
গ্যাস ফি ছাড়া বা কম খরচে কাজ করার জন্য বর্তমানে অনেক আধুনিক উপায় রয়েছে। যেমন আপনি যদি পলিগন বা সোলানা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন তবে আপনার খরচ হবে খুবই সামান্য। আবার অনেক জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস এখন লেজি মিন্টিং সুবিধা প্রদান করে যেখানে এনএফটি বিক্রির আগ পর্যন্ত আপনাকে কোনো প্রকার গ্যাস ফি দিতে হয় না। যখন কোনো ক্রেতা আপনার এনএফটিটি কিনবেন তখন সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকেই গ্যাস ফি কেটে নেওয়া হয়। কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় এই প্রক্রিয়ায় খরচের বিষয়টি মাথায় রেখে আপনি যদি সঠিক নেটওয়ার্ক নির্বাচন করতে পারেন তবে কোনো প্রকার আর্থিক ঝুঁকি ছাড়াই আপনি এই সেক্টরে কাজ শুরু করতে পারবেন।
কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় ? বিক্রির কৌশল

আপনার এনএফটি সফলভাবে তৈরি করার পর দ্বিতীয় বড় ধাপ হলো এর সঠিক প্রচারণা বা বিপণন। শুধুমাত্র একটি মার্কেটপ্লেসে ফাইল আপলোড করে রাখলে তা বিক্রির সম্ভাবনা খুব কম থাকে কারণ সেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার নতুন কাজ জমা পড়ছে। তাই আপনার তৈরি করা ডিজিটাল সম্পদের জন্য একটি নির্দিষ্ট দর্শক বা সংগ্রাহক গোষ্ঠী তৈরি করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে এনএফটি বিপণনের জন্য সবথেকে শক্তিশালী মাধ্যম হলো এক্স বা টুইটার এবং ডিসকর্ড। আপনি যখন শিখবেন কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় তখন একই সাথে আপনাকে এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে সক্রিয় হতে হবে। আপনার কাজের পেছনের গল্প এবং আপনি এটি কীভাবে তৈরি করেছেন তা ছোট ছোট ভিডিও বা পোস্টের মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন।
বিপণনের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ এবং আকর্ষণীয় রোডম্যাপ থাকা খুব জরুরি যা ক্রেতাদের মনে আপনার প্রজেক্ট সম্পর্কে বিশ্বাস তৈরি করবে। এনএফটি সংগ্রাহকরা সাধারণত এমন শিল্পীদের পছন্দ করেন যারা তাদের কমিউনিটির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। এছাড়া বড় কোনো ইনফ্লুয়েন্সারের সাথে যোগাযোগ করা বা বিভিন্ন ক্রিপ্টো গ্রুপে নিজের কাজ শেয়ার করার মাধ্যমেও আপনি দ্রুত পরিচিতি পেতে পারেন। মনে রাখবেন কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় তা জানার পাশাপাশি এটি মানুষের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা আপনার সফলতার অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করে দেয়। ধৈর্য ধরে নিয়মিত প্রচার চালিয়ে গেলে আপনার তৈরি করা ইউনিক টোকেনটি একদিন ভালো মূল্যে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
উপসংহার
ডিজিটাল শিল্পের এই নতুন ধারায় এনএফটি একটি স্থায়ী আসন দখল করে নিয়েছে এবং এটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে। ডিজিটাল সম্পদের মালিকানা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে নতুন শিল্পী তৈরি করা পর্যন্ত এর প্রভাব অপরিসীম। আপনি যদি এই গাইডের ধাপগুলো অনুসরণ করে বুঝতে পারেন যে কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় তবে আপনার জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয় বরং এটি আপনার সৃজনশীলতাকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার একটি আধুনিক সেতু। রাতারাতি সফলতার চিন্তা না করে নিজের কাজের মান বজায় রাখা এবং নিয়মিত প্রযুক্তি সম্পর্কে শেখার মানসিকতা থাকলে আপনি অবশ্যই এই সেক্টরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ Rug Pull কি ? ক্রিপ্টো প্রজেক্টে স্ক্যাম থেকে বাঁচার উপায় কী?
ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ব্লকচেইন জগতটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে তাই নিজেকে সবসময় আপ-টু-ডেট রাখা জরুরি। আপনার সৃজনশীল ধারণাগুলোকে ব্লকচেইনে স্থায়ী রূপ দিয়ে আপনি কেবল নিজের সম্পদ তৈরি করছেন না বরং আপনি ভবিষ্যতের ডিজিটাল অর্থনীতির একজন সক্রিয় অংশীদার হচ্ছেন। কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় এই বিষয়টি জানার পর এখন আপনার কাজ হলো হাতে কলমে অনুশীলন শুরু করা। সাহস করে নিজের প্রথম এনএফটিটি তৈরি করে ফেলুন এবং এই আধুনিক শিল্প বিপ্লবের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এই পথচলা শুভ এবং সফল হোক সেই কামনাই রইলো।
পরিশেষে, ক্রিপ্টোজানালা‘র আজকের এই আর্টিকেলে আমরা “কিভাবে NFT তৈরি করতে হয় ?” এ প্রশ্ন সম্পর্কিত যাবতীয় প্রায় সকল কিছুই জানলাম। আশা করি প্রিয় পাঠক NFT তৈরি করা নিয়ে প্রায় সকল তথ্যই ভালোভাবেই জানতে পেয়েছেন আমাদের আজকের এই লেখা থেকে!
সবশেষে, আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনার ভাল লেগেছে। কিছুটা হলেও উপকার হয়েছে পাঠকের। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে অনুরোধ থাকবে এই ব্লগ পোস্টটি প্রিয় জনদের সাথে শেয়ার করুন। আর কমেন্ট সেকশনে নিজের মূল্যবান মন্তব্য রেখে যেতে ভুলবেন না কিন্তু! আজকের মতো এখানেই শেষ করছি, দেখা হচ্ছে পরবর্তী কোনো এক লেখায়!
