Rug Pull কি ? ক্রিপ্টো প্রজেক্টে স্ক্যাম থেকে বাঁচার উপায় কী?
ক্রিপ্টোকারেন্সির দুনিয়াটা আসলে অনেকটা জাদুর শহরের মতো। এখানে যেমন রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার সুযোগ আছে, তেমনি এক নিমেষেই সব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিও কম নয়। আপনি হয়তো কোনো সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে বা বন্ধুর কথায় প্রভাবিত হয়ে নতুন কোনো ‘হাইপড’ বা ট্রেন্ডি কয়েনে ১০০ ডলার বিনিয়োগ করলেন। আশা ছিল, সকালে উঠে দেখবেন সেটা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু সকালে চার্ট ওপেন করে দেখলেন, দাম শূন্যের কোঠায় এবং প্রজেক্টের মালিক উধাও! ক্রিপ্টো মার্কেটে এই ঘটনাটিই এখন মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বিনিয়োগকারী হিসেবে টিকে থাকতে হলে আপনাকে সবার আগে জানতে হবে Rug Pull কি এবং কীভাবে এই ডিজিটাল ফাঁদ থেকে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদ রাখবেন।
তাই ক্রিপ্টোজানালা‘র আজকের এই আর্টিকেলে আমরা Rug Pull কি ? ক্রিপ্টো প্রজেক্টে স্ক্যাম থেকে বাঁচার উপায় কী? সহ এই স্ক্যামের আদ্যপান্ত খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করব। তাহলে চলুন, শুরু করি!
Rug Pull এর ধারণা। Rug Pull কী জিনিস?
আক্ষরিক অর্থে ‘Rug Pull’ শব্দটির মানে হলো কারো পায়ের নিচ থেকে কার্পেট বা মাদুর হ্যাঁচকা টানে সরিয়ে নেওয়া। আপনি যদি কার্পেটের ওপর দাঁড়িয়ে থাকেন এবং কেউ হঠাৎ সেটা টেনে নেয়, তাহলে আপনি যেমন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাবেন, ক্রিপ্টোকারেন্সিতেও বিষয়টি ঠিক তেমনই ঘটে। সহজ কথায়, যখন কোনো ক্রিপ্টো প্রজেক্টের ডেভেলপার বা মালিকরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করে এবং টোকেনের দাম বাড়ার পর হঠাৎ করে মার্কেট থেকে সব টাকা (Liquidity) সরিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়, তখন তাকে ‘রাগ পুল’ বলা হয়।
আরও পড়ুনঃ Exchange এবং Web3 Wallet এর মধ্যে পার্থক্য কী?
অনেকে একে হ্যাকিংয়ের সাথে গুলিয়ে ফেলেন, কিন্তু দুটোর মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে। হ্যাকিং সাধারণত বাইরের কোনো সাইবার ক্রিমিনাল করে থাকে। কিন্তু রাগ পুল হলো ঘরের শত্রু বিভীষণ বা ‘ইনসাইড জব’। অর্থাৎ, যাদের ওপর বিশ্বাস করে আপনি টাকা বিনিয়োগ করেছেন, সেই প্রজেক্টের নির্মাতারাই যখন পরিকল্পিতভাবে আপনার টাকা চুরি করে চম্পট দেয়, সেটাই হলো আসলে রাগ পুল। এটি মূলত ডিসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্স বা DeFi ইকোসিস্টেমে (যেমন: Uniswap বা PancakeSwap-এ) সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, কারণ এখানে কোনো প্রজেক্ট লিস্ট করতে খুব একটা কড়াকড়ি বা ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয় না।
রাগ পুল আসলে কীভাবে কাজ করে?

রাগ পুল মূলত বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে করা এক ধরণের সুনিপুণ ডিজিটাল চুরি। Rug Pull কি তা গভীরভাবে বুঝতে হলে এর পেছনের কারিগরি প্রক্রিয়াটি জানা প্রয়োজন। সাধারণত একটি রাগ পুল সম্পন্ন করতে স্ক্যামাররা ৪টি প্রধান ধাপ অনুসরণ করে।
প্রথমে, ডেভেলপাররা একটি নতুন ক্রিপ্টো টোকেন তৈরি করে। এরপর প্যানকেক সোয়াপ (PancakeSwap) বা ইউনিসোয়াপের (Uniswap) মতো ডিসেন্ট্রালাইজড এক্সচেঞ্জে (DEX) সেটি লিস্ট করে। ট্রেডিং চালু করার জন্য তারা নিজেরা কিছু ফান্ড (যেমন: ETH, BNB বা SOL) দিয়ে একটি প্রাথমিক ‘লিকুইডিটি পুল’ তৈরি করে। দ্বিতীয় ধাপে শুরু হয় মার্কেটিং বা ‘হাইপ’ তৈরির খেলা। টেলিগ্রাম, টুইটার বা ডিসকর্ডে তারা ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার করে যে এই প্রজেক্টটি খুব দ্রুতই সফল হবে।
আরও পড়ুনঃ Bitcoin Halving কী ? ক্রিপ্টো বাজারে এর প্রভাব কী? জানুন বিস্তারিত
সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যখন লোভে পড়ে টোকেনটি কিনতে শুরু করে, তখন লিকুইডিটি পুলে আসল টাকা জমা হতে থাকে এবং টোকেনটির দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। শেষ ধাপে, যখন লিকুইডিটি পুলে স্ক্যামারদের কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ডলার জমা হয়, তখন তারা হঠাৎ করে পুল থেকে সব লিকুইডিটি সরিয়ে নেয় অথবা তাদের হাতে থাকা কোটি কোটি ফ্রি টোকেন মার্কেটে বিক্রি করে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই টোকেনটির দাম শূন্যে নেমে আসে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকে কেবল কিছু মূল্যহীন ডিজিটাল সংখ্যা, যা আর কখনোই বিক্রি করা সম্ভব হয় না।
রাগ পুলের প্রকারভেদ
ক্রিপ্টোকারেন্সির দুনিয়ায় কিন্তু সব স্ক্যাম একই পদ্ধতিতে ঘটে না। স্ক্যামাররা বা অসৎ ডেভেলপাররা মূলত তিনটি প্রধান উপায়ে রাগ পুল বা প্রতারণা করে থাকে। নিচে এগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. লিকুইডিটি চুরি (Hard Rug): এটি রাগ পুলের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ। এখানে ডেভেলপাররা স্মার্ট কন্ট্রাক্টে কোনো লিকুইডিটি লক (Lock) করে না অথবা ব্যাকডোর এক্সেস রাখে। যখন পুলে প্রচুর মানুষের টাকা জমা হয়, তখন তারা পুরো লিকুইডিটি উইথড্র করে বা সরিয়ে নিয়ে প্রজেক্ট বন্ধ করে দেয়।
২. হানিপট (Honeypot): নামের মতোই এটি একটি মিষ্টি ফাঁদ। এই ধরণের টোকেনের স্মার্ট কন্ট্রাক্টে কোডিংয়ের মাধ্যমে এমন নিয়ম সেট করা থাকে যে, বিনিয়োগকারীরা টোকেনটি কিনতে পারবেন ঠিকই, কিন্তু বিক্রি করতে পারবেন না। শুধুমাত্র ডেভেলপারদের ওয়ালেট থেকেই বিক্রির অনুমতি থাকে। ফলে আপনি দেখবেন দাম বাড়ছে, কিন্তু আপনার টোকেন আপনি ক্যাশ করতে পারছেন না।
৩. পাম্প অ্যান্ড ডাম্প (Soft Rug): এটি টেকনিক্যালি হার্ডকোর রাগ পুল না হলেও ফলাফল একই। এখানে প্রজেক্টের শুরুতে ডেভেলপাররা বেনামী ওয়ালেটে বিশাল পরিমাণ টোকেন লুকিয়ে রাখে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাইপ তুলে দাম বাড়ানোর পর তারা নিজেদের টোকেনগুলো মার্কেটে ডাম্প (বিক্রি) করে দেয়, ফলে দাম হুট করেই ধসে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ Crypto Wallet কী ? Hot Wallet এবং Cold Wallet নিয়ে বিস্তারিত জানুন
আপনার বোঝার সুবিধার্থে নিচে এক নজরে বিভিন্ন রাগ পুলের তুলনা দেওয়া হলো:
| স্ক্যামের ধরণ | কাজের পদ্ধতি | ক্ষতির ঝুঁকি |
| লিকুইডিটি চুরি | পুরো ফাণ্ড বা লিকুইডিটি পুল খালি করে ফেলা হয় | ১০০% ক্ষতি (টাকা ফেরত পাওয়া অসম্ভব) |
| হানিপট (Honeypot) | কেনা যায় (Buy), কিন্তু বিক্রি (Sell) অপশন ব্লক করা থাকে | ১০০% ক্ষতি (টোকেন ওয়ালেটে আটকা পড়ে থাকে) |
| সফট রাগ (Dump) | ডেভেলপাররা নিজেদের বিশাল শেয়ার হঠাৎ বিক্রি করে দেয় | আংশিক বা পুরো ক্ষতি (দাম ৯০-৯৯% কমে যায়) |
রাগ পুলের বিখ্যাত কিছু নজির

তাত্ত্বিক আলোচনার পর এবার চলুন বাস্তব কিছু ঘটনার দিকে চোখ রাখা যাক। ক্রিপ্টো ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা বিনিয়োগকারীদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল। এই উদাহরণগুলো জানলে আপনি বুঝতে পারবেন স্ক্যামাররা কতটা ধূর্ত হতে পারে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে ২০২১ সালে ‘Squid Game’ টোকেন নিয়ে। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘স্কুইড গেম’-এর নাম ভাঙিয়ে এই টোকেনটি মার্কেটে আনা হয়। মিডিয়া হাইপ এবং সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এর দাম ১ সেন্ট থেকে বেড়ে ২৮০০ ডলারের ওপরে চলে যায়! কিন্তু টুইস্ট ছিল অন্য জায়গায় এটি ছিল একটি ‘হানিপট’ স্ক্যাম, অর্থাৎ মানুষ কিনতে পারছিল কিন্তু বিক্রি করতে পারছিল না। শেষমেশ ডেভেলপাররা প্রায় ৩.৩ মিলিয়ন ডলার নিয়ে উধাও হয়ে যায় এবং টোকেনটির দাম মুহূর্তের মধ্যে শূন্যে নেমে আসে।
আরেকটি বড় ঘটনা ছিল ‘AnubisDAO’ এর রাগ পুল। এটি ছিল একটি কুকুর-থিমযুক্ত প্রজেক্ট। বিনিয়োগকারীরা এতটাই অন্ধ বিশ্বাস করেছিলেন যে, প্রজেক্ট চালু হওয়ার মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যে সেখানে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারের ইথেরিয়াম জমা হয়। কিন্তু কোনো প্রোডাক্ট লঞ্চ করার আগেই সেই পুরো ফান্ড ডেভেলপারদের ওয়ালেটে ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়। এই ঘটনাগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, প্রজেক্টের নাম বা সাময়িক জনপ্রিয়তা দেখে বিনিয়োগ করা কতটা বোকামি।
ইনভেস্ট করার আগে সতর্কতা সংকেতগুলো কী?
কোনো প্রজেক্টে টাকা ঢালার আগে সেটির অথরিটি থিক আছে কিনা তা যাচাই করা আপনার নিজের দায়িত্ব। স্ক্যামাররা যতই স্মার্ট হোক না কেন, তারা কিছু না কিছু ভুল বা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ রেখেই যায়। Rug Pull কি এবং এর ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে হলে নিচের ৫টি সতর্ক সংকেত বা রেড ফ্ল্যাগ আপনাকে অবশ্যই চেক করতে হবে:
- বেনামী ডেভেলপার (Anonymous Team): ক্রিপ্টো দুনিয়ায় প্রজেক্টের মালিকদের পরিচয় গোপন রাখা নতুন কিছু নয় (যেমন বিটকয়েনের সাতোশি নাকামোতো)। কিন্তু নতুন কোনো মিম কয়েন বা ডিফাই প্রজেক্টের টিমের কোনো হদিস না থাকলে, লিংকডইন বা টুইটারে তাদের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব না থাকলে, সেটি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
- লিকুইডিটি লক না থাকা (Unlocked Liquidity): এটি সবচেয়ে বড় রেড ফ্ল্যাগ। লেজিজিট বা ভালো প্রজেক্টগুলো তাদের লিকুইডিটি পুল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (যেমন ১ বছর বা ৫ বছর) ‘লক’ করে রাখে, যাতে তারা চাইলেই টাকা সরাতে না পারে। যদি দেখেন লিকুইডিটি লক করা নেই বা মাত্র ১-২ দিনের জন্য লক করা, তবে বুঝবেন এখানে বড় ঝামেলা আছে।
- অস্বাভাবিক প্রতিশ্রুতি (Unrealistic Hype): যদি কোনো প্রজেক্ট দাবি করে যে তারা নিশ্চিতভাবে আপনাকে ১০০০% বা ১০০ গুণ প্রফিট দেবে, তবে সাবধান। মনে রাখবেন, “If it sounds too good to be true, it probably is.” অতিরিক্ত লোভ দেখানো স্ক্যামারদের পুরোনো কৌশল।
- কপি-পেস্ট হোয়াইটপেপার: প্রজেক্টের ব্লু-প্রিন্ট বা হোয়াইটপেপারটি পড়ে দেখুন। যদি দেখেন সেটি অন্য কোনো জনপ্রিয় প্রজেক্ট থেকে হুবহু কপি করা বা তাতে ব্যাকরণগত ভুল এবং অস্পষ্ট তথ্য ভরা, তবে নির্দ্বিধায় ধরে নিতে পারেন এটি একটি স্ক্যাম।
- হোল্ডারদের আধিপত্য (Whale Dominance): ব্লকচেইন এক্সপ্লোরারে (যেমন BscScan বা Etherscan) গিয়ে টোকেনটির হোল্ডার লিস্ট চেক করুন। যদি দেখেন মোট টোকেনের সিংহভাগ (যেমন ২০-৩০% বা তার বেশি) মাত্র ২-৩টি ওয়ালেটে জমা আছে, তবে সেখানে ইনভেস্ট করবেন না। কারণ ওই ২-৩ জন চাইলেই সব টোকেন বিক্রি করে মার্কেট ধসিয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Testnet ও Mainnet কী ? টেস্টনেট থেকে কি আদৌ আয় করা যায়?
বাঁচার উপায় এবং চেকিং টুলস

একজন সচেতন বিনিয়োগকারী হিসেবে Rug Pull কি এবং এর ভয়াবহতা জানার পর আপনার প্রধান কাজ হলো ইনভেস্ট করার আগে প্রজেক্টটিকে আতশ কাঁচের নিচে ফেলে যাচাই করা। আপনি হয়তো ভাবছেন, “আমি তো কোডিং জানি না, স্মার্ট কন্ট্রাক্ট বুঝব কীভাবে?” সুখবর হলো, প্রযুক্তির কল্যাণে এখন এমন কিছু ফ্রি টুলস আছে যা দিয়ে আপনি কয়েক সেকেন্ডেই যেকোনো টোকেনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারবেন।
প্রথমে চেক করুন প্রজেক্টটির কোনো অডিট রিপোর্ট (Audit Report) আছে কি না। CertiK বা Hacken-এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান দ্বারা অডিট করা থাকলে সেটিকে তুলনামূলক নিরাপদ ধরা যায়। এরপর নিচের টুলসগুলো ব্যবহার করে নিজেই গোয়েন্দাগিরি করতে পারেন:
- Token Sniffer: এটি একটি অটোমেটেড স্ক্যানার। এখানে টোকেনের অ্যাড্রেস পেস্ট করলে এটি স্মার্ট কন্ট্রাক্টের সমস্যাগুলো খুঁজে বের করে এবং ১০০ এর মধ্যে একটি স্কোর দেয়। স্কোর যত কম, ঝুঁকি তত বেশি।
- RugDoc: এই ওয়েবসাইটটি বিভিন্ন নতুন প্রজেক্টের রিস্ক রেটিং দেয়। এখানে বলে দেওয়া হয় কোনো প্রজেক্ট ‘High Risk’ বা ‘Low Risk’ কি না।
- Honeypot Detector: আপনার পছন্দের টোকেনটি হানিপট কি না (অর্থাৎ কেনা যায় কিন্তু বিক্রি করা যায় না), তা চেক করার জন্য Honeypot.is ব্যবহার করতে পারেন।
- Poocoin বা DEXTools: শুধু দাম বাড়া দেখে উত্তেজিত হবেন না। এই চার্টগুলোতে গিয়ে দেখুন ‘Sell’ অর্ডার হচ্ছে কি না। যদি দেখেন শুধুই গ্রিন ক্যান্ডেল (Buy) এবং কোনো রেড ক্যান্ডেল (Sell) নেই, তবে বুঝবেন ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।
ইনভেস্ট করার আগে ৫টি আবশ্যিক চেকলিস্ট:
- কন্ট্রাক্ট ভেরিফিকেশন: BscScan বা Etherscan-এ সোর্স কোড ভেরিফাইড টিক চিহ্ন (✅) আছে তো?
- লিকুইডিটি লক: লিকুইডিটি কি অন্তত ৬ মাস বা ১ বছরের জন্য লক করা আছে? (লিংক চেক করুন)।
- সেলিং ট্যাক্স: টোকেন কিনলে বা বেচলে কি অস্বাভাবিক ট্যাক্স (যেমন ১৫-২০% এর বেশি) কাটছে?
- হোল্ডার চেক: টপ ৫ জন হোল্ডারের কাছে কি মোট সাপ্লাইয়ের ১০-১৫% এর বেশি টোকেন আছে? (থাকলে বিপজ্জনক)।
- টিম ও কমিউনিটি: টেলিগ্রাম গ্রুপে কি শুধুই বট (Bot) কথা বলছে, নাকি রিয়েল মানুষ আছে?
আরও পড়ুনঃ ক্রিপ্টোকারেন্সী কি বাংলাদেশে অবৈধ ? ঝুঁকি ও বাস্তবতা কেমন? (2025)
যদি স্ক্যামের শিকার হন, তবে করণীয় কী?
এত সতর্কতার পরেও দুর্ভাগ্যবশত আপনি যদি কখনো রাগ পুলের শিকার হয়ে যান, তবে আপনাকে মিথ্যা সান্ত্বনা দেব না, ডিসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্সের (DeFi) দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। এখানে কোনো কাস্টমার কেয়ার নেই যেখানে আপনি নালিশ করবেন। তবে, রাগের মাথায় সব হাল ছেড়ে দিলে চলবে না; ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি আটকাতে আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো ‘Revoke’ (রিভোক) করা। স্ক্যাম টোকেন কেনার সময় আপনি অজান্তেই স্মার্ট কন্ট্রাক্টকে আপনার ওয়ালেটের ফান্ড ব্যবহারের ‘আনলিমিটেড অ্যাপ্রুভাল’ দিয়ে থাকতে পারেন। এর ফলে স্ক্যামাররা পরেও আপনার ওয়ালেটে থাকা অবশিষ্ট ভালো টোকেনগুলো (যেমন USDT বা BNB) চুরি করতে পারে। তাই দ্রুত Revoke.cash বা Unrekt ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার ওয়ালেট কানেক্ট করুন এবং ওই স্ক্যাম টোকেনটির পারমিশন বাতিল বা Revoke করুন।
দ্বিতীয়ত, কমিউনিটিকে সতর্ক করুন। সোশ্যাল মিডিয়া বা ক্রিপ্টো ফোরামগুলোতে প্রজেক্টটি সম্পর্কে রিপোর্ট করুন যাতে অন্য কেউ নতুন করে এই ফাঁদে পা না দেয়। শিক্ষাটি তেতো হলেও এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হোন। মনে রাখবেন, ক্রিপ্টো মার্কেটে টিকে থাকাটাই হলো সবচেয়ে বড় প্রফিট।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট হলো ধৈর্যশীলদের জন্য, আর যারা রাতারাতি কোটিপতি হতে চায় তাদের জন্যই ওত পেতে থাকে স্ক্যামাররা। Rug Pull কি এবং এর ভয়াবহতা জানার পর আশা করি আপনি এখন থেকে যেকোনো নতুন টোকেনে বিনিয়োগের আগে দুবার ভাববেন। মনে রাখবেন, অন্ধের মতো অন্যের কথায় টাকা ঢালার চেয়ে সুযোগ মিস করা বা ‘FOMO’ এড়িয়ে চলা অনেক ভালো। ক্রিপ্টো জগতে আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো আপনার নিজের বিচারবুদ্ধি এবং গবেষণা (DYOR)। লোভ সংবরণ করুন, সতর্ক থাকুন এবং আপনার ডিজিটাল সম্পদকে সুরক্ষিত রাখুন।
পরিশেষে, ক্রিপ্টোজানালা‘র আজকের এই আর্টিকেলে আমরা “Rug Pull কি ? ক্রিপ্টো প্রজেক্টে স্ক্যাম থেকে বাঁচার উপায় কী?” এ প্রশ্ন সম্পর্কিত যাবতীয় প্রায় সকল কিছুই জানলাম। আশা করি প্রিয় পাঠক “Rug Pull কি ?” এ প্রশ্ন নিয়ে প্রায় সকল তথ্যই ভালোভাবেই জানতে পেয়েছেন আমাদের আজকের এই লেখা থেকে!
সবশেষে, আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনার ভাল লেগেছে। কিছুটা হলেও উপকার হয়েছে পাঠকের। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে অনুরোধ থাকবে এই ব্লগ পোস্টটি প্রিয় জনদের সাথে শেয়ার করুন। আর কমেন্ট সেকশনে নিজের মূল্যবান মন্তব্য রেখে যেতে ভুলবেন না কিন্তু! আজকের মতো এখানেই শেষ করছি, দেখা হচ্ছে পরবর্তী কোনো এক লেখায়!
